
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চলে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি-২ আসনে (সদর-নলছিটি) বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে ১২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র দুজন, যা শতকরা ২ ভাগেরও কম। তাঁরা হলেন ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী।
ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, জনমত জরিপ ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোকে মনোনীত করেন। তাঁর চলার পথ সহজ ছিল না। জেলা বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের বিরোধিতার কারণে ভোটের আগে দলীয় কর্মীরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিল। কিন্তু তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটারদের মন জয় করে বিজয়ী হয়েছেন।
ইসরাত সুলতানা এলাকায় ইলেন ভুট্টো নামেই পরিচিত। তাঁর প্রয়াত স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টো একসময় জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে এরশাদের ডাকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি ঝালকাঠি-২ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তাঁর মৃত্যুতে এ আসনে ২০০০ সালের উপনির্বাচনে ইলেন ভুট্টো বিএনপির প্রার্থী হয়ে নৌকার প্রার্থী আমির হোসেন আমুর কাছে পরাজিত হন। তবে এক বছরের মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে ইলেন ভুট্টো আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমুকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন।
ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঝালকাঠি সদর ও নলছিটির জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এ জন্য তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আগামীতে এলাকার উন্নয়নই হবে আমার আসল কাজ।’