পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পাওয়ায় রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরে আনন্দমিছিল বের করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায়
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পাওয়ায় রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরে আনন্দমিছিল বের করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায়

একনেকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন, রাজবাড়ীতে আনন্দমিছিল ও দোয়া মাহফিল

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এই খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দারা। আজ বুধবার বাদ আসর রাজবাড়ী ও পাংশা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরে আনন্দমিছিল বের করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠনের পর তৃতীয় একনেক বৈঠকে এটিই প্রথম মেগা প্রকল্পের অনুমোদন। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। চলতি বছর জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ নিজ নিজ ফেসবুক আইডিতে আলহামদুলিল্লাহ লিখে শুকরিয়া আদায় করে সুখবরটি জেলাবাসীকে জানান।

এদিকে সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুস সালাম মিয়ার আয়োজনে রাজবাড়ী ও পাংশা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ী সদর উপজেলা মডেল মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সালাম মিয়া।

এ ছাড়া বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আয়োজনে জেলা শহরে আনন্দমিছিল বের করা হয়। দলীয় কার্যালয় থেকে আনন্দমিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ও পান্না চত্বর এলাকা প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে এসে শেষ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারী, সাবেক সদস্যসচিব মঞ্জুরুল আলম (দুলাল), জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব, সাবেক দপ্তর সম্পাদক এ মজিদ বিশ্বাস। তাঁরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস ও ২টি ফিশ পাস। এ বাঁধের মাধ্যমে ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে। আর সংরক্ষিত পানি বণ্টনের জন্য তিনটি অফটেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

সংরক্ষিত পানি দিয়ে পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এগুলো হলো হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা হবে।