পঞ্চগড়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে করতোয়া সেতুতের সামনে
পঞ্চগড়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে করতোয়া সেতুতের সামনে

শহীদ হাদি হত্যার বিচার দাবি

পঞ্চগড়ে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধে লাঠিপেটা, আহত ২৬

পঞ্চগড়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বিকেলে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে করতোয়া সেতুর সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত অন্তত ২৬ জন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন ভর্তি আছেন এবং ১৩ জন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের বিচারসহ ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ বেলা আড়াইটার দিকে পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে ‘বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিকেল চারটার দিকে সেনাসদস্যরা সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সেনা ক্যাম্পে বসে আলোচনা করার কথা বলেন। পরে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের অন্যতম সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমান, সহসমন্বয়ক আতিকুর রহমান, মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ২৬ জন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।

মোকাদ্দেসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তখন সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে আমাদের ওপর অতর্কিতভাবে লাঠিচার্জ করেন। এতে আমরা আন্দোলনকারীরাসহ সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

পঞ্চগড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ধস্তাধস্তি। রোববার বিকেলে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে করতোয়া সেতুতের সামনে

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ইন্দ্রাশীষ সান্যাল সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাত্র-জনতার বেশির ভাগই ‘ব্ল্যান্ট ইনজুরি’ (শক্ত কোনো বস্তুর আঘাত) পেয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের কাছে ২৬ জন এসেছেন। তাঁদের বেশির ভাগ ভর্তি হয়েছেন, আবার কাউকে কাউকে তাঁরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। প্রয়োজনে তাঁদেরও ভর্তি করা হবে।

পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, এক ঘণ্টার বেশি সময় সড়কে অবরোধ চলাকালে সেনাসদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে তাঁরা একজন লেফটেন্যান্টকে অবজ্ঞা করেন। এ সময় ধস্তাধস্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এতে হয়তো দু-একজনের আঘাত লাগতে পারে। ঘটনার পর তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য সেনা ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের দেখতে সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম ও সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান। এ ছাড়া এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইনসহ জামায়াত ও এনসিপির নেতা–কর্মীরা হাসপাতালে যান।

আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রসি ক্ষমতা আছে, সে ক্ষেত্রে তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে। এ ছাড়া বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’