বরিশালে ৯ দিনব্যাপী বিভাগীয় বইমেলা জমে উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বেলস পার্কে
বরিশালে ৯ দিনব্যাপী বিভাগীয় বইমেলা জমে উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বেলস পার্কে

পাঠক-ক্রেতার ভিড়ে জমে উঠছে বরিশাল বিভাগীয় বইমেলা

পাঠক ও ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠতে শুরু করেছে বরিশাল বিভাগীয় বইমেলা। স্টলগুলোতেও বাড়ছে বিক্রি। গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন হয়। তবে ওই দিন মেলায় তেমন ভিড় ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ক্রেতারা মেলায় আসতে শুরু করেছেন।

নগরের বেলস পার্কে ৯ দিনব্যাপী ‘বরিশাল বিভাগীয় বইমেলা ২০২৫’–এর আয়োজন করেছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মঞ্জুর মোর্শেদ, স্থানীয় সরকারের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. সোহরাব হোসেন, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খালিদ হোসেন ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।

মেলায় ৮০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০টি স্টল রয়েছে। ৯ দিনব্যাপী এই বইমেলা প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

এবার মেলায় প্রথমা, সময়, অনন্যা, চৈতন্য, বিদ্যাপ্রকাশ, অক্ষর বুনন, গ্রন্থরাজ্য, মাওলা ব্রাদার্স, আগামীসহ বেশ কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে হস্ত ও কুটির শিল্পসহ কয়েকটি প্রদর্শনী স্টল।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্টলে ক্রেতারা পছন্দের বই কিনতে ভিড় করছেন। সেলফি জোনে অনেকে সেলফি তুলছেন, শিশুরা ঘোড়ায় চড়ে ঘুরছে। মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁদের কেউ জানান, কয়েকটি বই কিনেছেন। কেউ পছন্দের বই বাছাই করে রেখেছেন।

মেহেদী হাসান নামের এক তরুণ বলেন, ‘প্রতিদিন এসে ঘুরে ঘুরে দেখে বই কেনার মজাই আলাদা। তাই এক দিনে সব বই কিনিনি।’

আরেক পাঠক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো বই কিনিনি। ঘুরে ঘুরে বাছাই করছি, শেষ দিকে কিনব। দেখি আরও নতুন কী কী বই আসে।’

বইয়ের স্টলে পাঠকেরা পছন্দের বই দেখছেন, কিনছেন

গতকাল বৃহস্পতিবার মেলায় এসেছিলেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নাইমা রহমান, অ্যানজেলিনা শর্মী, নাঈম ইসলাম। তাঁরা সবাই উদ্বোধনী দিনেও মেলায় এসেছিলেন। নাঈম ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর এই বইমেলা বসে। আমরা এই মেলার অপেক্ষায় থাকি। এখানে আমরা পছন্দের বই কেনার পাশাপাশি বন্ধুদের নিয়ে গল্প-আড্ডা, আবৃত্তি—এসবের মধ্য দিয়ে একটি সৃজনশীল সময় কাটানোর সুযোগ পাই।’

প্রথমা প্রকাশনের নির্বাহী (বিক্রয়) সনাতন বড়াল বলেন, ‘মেলার তৃতীয় দিন ভিড় বেড়েছে। এখন ক্রেতারা পছন্দের বই বাছাই করছেন। বেচাবিক্রি মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। আশা করি, বিক্রি আরও বাড়বে। ছুটির দিনে ভিড় ও বিক্রি দুটোই বাড়বে।’

প্রতিবছর মেলা থেকে বই সংগ্রহ করেন বরিশালের প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শাহ সাজেদা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেলা ঘুরে এসেছি। কিছু বই কিনেছি। পছন্দের আরও কিছু বই কিনব।’

মেলার আয়োজনকে ইতিবাচক উল্লেখ করে শাহ সাজেদা আরও বলেন, ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার যে প্রবণতা, তাতে অনেকে ছাপা বইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। কিন্তু এ সংশয় অমূলক। কারণ, নতুন প্রজন্ম এখনো প্রচুর ছাপা বই পড়ছে, এটা অবশ্যই আশার খবর। ছাপা বইয়ে যেমন আস্থা রাখা যায়, ডিজিটাল কনটেন্টে তা রাখা যায় না। তাই বই আছে ও থাকবে।’