
সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলটির স্থানীয় নেতা–কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত কমিটিকে ‘অস্বচ্ছ’ ও ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন করা না হলে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে গণপদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড়ের আল-বারাকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির স্থানীয় নেতা–কর্মীদের একাংশ এ ঘোষণা দেয়। একই স্থানে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পৃথক কর্মসূচিতে জেলা কমিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন দলটির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা শাখার নেতারা।
গতকাল রোববার আগামী ছয় মাসের জন্য সাতক্ষীরা জেলা এনসিপির ১৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। দলের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামানকে। সদস্যসচিব হয়েছেন মো. কামরুজ্জামান (বুলু) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম রজব আলী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সি এম নাজমুল ইসলাম ও শেখ নাজমুল হুদা। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।
নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তুষ্ট নেতা–কর্মীরা বলেন, সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনেকে শ্রম, সময় ও ত্যাগ দিয়ে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু নতুন কমিটিতে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করা অধিকাংশ নেতা–কর্মীকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, এই প্রতিবাদ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং প্রশ্নবিদ্ধ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে।
নতুন কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পাওয়া মো. কামরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন না হলে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। তিনি তাঁর বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
কামরুজ্জামান বলেন, এনসিপিকে তাঁরা ভালোবাসেন এবং নির্বাচনের সময় দলকে ভোটও দিতে পারেন। তবে ‘নীতিভ্রষ্ট’ নেতৃত্বের সঙ্গে থেকে তাঁরা আর দল করবেন না। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু কয়েকজন নেতার পদত্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাতক্ষীরায় এনসিপির সঙ্গে যুক্ত ছাত্রশক্তি, শ্রমিকশক্তি ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটির বিপুলসংখ্যক সদস্যও তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। কমিটি পরিবর্তন না হলে তাঁদের একটি বড় অংশ দলীয় কার্যক্রম থেকে সরে যেতে পারেন।
জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সি এম নাজমুল ইসলাম বলেন, তাঁদের প্রতিবাদ বা গণপদত্যাগ পদ-পদবির জন্য নয়। শুরু থেকে যাঁরা সাতক্ষীরায় এনসিপিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন এবং দলকে ধারণ করেছেন, তাঁদের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদেই এ সিদ্ধান্ত।
এদিকে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাতক্ষীরা জেলা শাখার নেতারাও পৃথক কর্মসূচিতে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা শাখার সদস্যসচিব বখতিয়ার হোসেন বলেন, নতুন কমিটি অস্বচ্ছ এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। প্রকৃত আন্দোলনকারী ও ত্যাগী নেতা–কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে ‘একপেশে ও পকেট কমিটি’ করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বর্তমান কমিটি পরিবর্তন করে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
নতুন জেলা কমিটি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কামরুজ্জামান আহ্বায়ক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। গণতান্ত্রিক সংগঠনে কোনো পদপ্রত্যাশী পছন্দের পদ না পেয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। তবে কমিটি নিয়ে তাঁদের অভিযোগের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেখবেন।
আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে যাঁরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করেই কমিটি দিয়েছে। আমার মনে হয়, যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে। এখন কমিটি নিয়ে যাঁদের অভিযোগ, সেটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিষয়। আমি নতুন, নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের দিকে মনোযোগ দিতে চাই।’