একই মেয়ের সঙ্গে দুই ভাইয়ের প্রেমের সম্পর্ক। তা নিয়ে দুই ভাইয়ের বিবাদ। সেই বিবাদের জের ধরে ছোট ভাইকে হাতের রগ কেটে ও শ্বাসরোধ হত্যা করা হয়। ভাই হত্যার ঘটনা নেশাগ্রস্ত বাবার কাঁধে চাপাতে রেললাইনে ফেলে তাঁকেও হত্যা করা হয়। এসব ঘটিয়ে ওই ব্যক্তির বড় ছেলে সাইফুর রহমান (সোহান) প্রচার চালান, তাঁর ছোট ভাইকে হত্যা করে বাবা আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে গাজীপুরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায়। রোববার সকালে লাশ দুটি উদ্ধারের পাশাপাশি সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ সোমবার বিকেলে তিনি গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল মেট্রাপলিটন আদালতের বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বায়েজিদ নেওয়াজ।
নিহত দুজন হলেন টঙ্গীর বনমালা এলাকার বাসিন্দা সোহেল হোসেন (৫২) ও তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছেলে সাকিবুর রহমান (শোয়েব)। সাকিবুর রাজধানীর উত্তরায় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল ফুড নামে একটি দোকানে চাকরিও করতেন। নিহত সোহেলের বড় ছেলে গ্রেপ্তার সাইফুর রহমানও একটি ওষুধ কারখানায় কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, টঙ্গীর বনমালা এলাকার বাসিন্দা সোহেল হোসেন একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। পরে দেশে ফিরে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। বছরখানেক আগে তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। এর পর থেকে বাড়িতে দুই ছেলেকে নিয়েই তিনি বসবাস করতেন। এর মধ্যে তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। প্রায়ই সোহেলকে তাঁর ছেলেরা রাস্তা থেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাসায় নিয়ে আসতেন।
সাইফুর রহমানের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, এক আত্মীয়ের মেয়ের সঙ্গে দুই ভাই সাইফুর রহমান ও সাকিবুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্ব নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া–বিবাদও হয়েছে। এরই জের ধরে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে বড় ছেলে সাইফুর রহমান এক সহযোগীকে নিয়ে ছোট ভাই সাকিবুর রহমানকে দুই হাতের রগ কেটে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ছোট ভাইকে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে নাটক সাজান সাইফুর রহমান। পরে তাঁর নেশাগ্রস্ত বাবা সোহেলকে ধরে নিয়ে বাড়ি থেকে দুই-তিন শ ফুট দূরের রেললাইনে ফেলে দেন। সেখানে ট্রেনের আঘাতে তিনি মারা যান। পরে সাইফুর রহমান তাঁর স্বজনদের ফোন করে জানান, তাঁর ছোট ভাইকে হত্যা করে বাবা রেললাইনে আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় নিহত সোহেল হোসেনের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় সাইফুর রহমানেক গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বায়েজিদ নেওয়াজ বলেন, মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। ঘটনার পর একটি সিসিটিভির ফুটেজ পাওয়া যায়। সেখানে সোহেলকে তাঁর বড় ছেলে সাইফুর রহমান ধরে নিয়ে রেললাইনের দিকে যেতে দেখা যায়। এ থেকে সন্দেহ করা হয় জোড়া হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত থাকতে পারেন। পরে সাইফুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার দায় পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। পরে আজ বিকেলে গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।