শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাজিতে জিতা সেই মহিষ মালিকের কাছে ফেরত দিলেন আবদুল মান্নান। গতকাল শুক্রবার বালুঘাটা এলাকায়
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বাজিতে জিতা সেই মহিষ মালিকের কাছে ফেরত দিলেন আবদুল মান্নান। গতকাল শুক্রবার বালুঘাটা এলাকায়

নির্বাচন নিয়ে বাজিতে জেতা সেই মহিষ মালিককে ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে বাজিতে জেতা একটি মহিষ শেষ পর্যন্ত মালিকের হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক আবদুল মান্নান। মহিষ হারিয়ে মালিকের কষ্ট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার কথা জানতে পেরে মানবিক বিবেচনায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাটি ঘটে নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে। নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের আবদুল মান্নান ও পার্শ্ববর্তী বালুঘাটা গ্রামের আমীর হোসেনের মধ্যে অভিনব একটি বাজি হয়। শর্ত ছিল—দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে আবদুল মান্নান দেবেন পাঁচটি মহিষ আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে আমীর হোসেন দেবেন একটি মহিষ।

ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে বাজিতে পরাজিত হন আমীর হোসেন। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন আবদুল মান্নান।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিষটি ছিল আমীর হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। মহিষ হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারে আর্থিক কষ্ট এবং জীবিকার অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আসতেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

আবদুল মান্নান বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক, তা তিনি চান না। এরপর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গত রাতেই মহিষটি আমীর হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। উপস্থিত লোকজন তাঁর এ সিদ্ধান্তে সাধুবাদ জানান।

উল্লেখ্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট।

উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে বাজিতে জেতা মহিষটি গতকাল রাতেই নিজ মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকায় সম্প্রীতি ও মানবতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে।