কেরানীগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষিজমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফের বিরুদ্ধে কৃষি জমি দখল চেষ্টার অভিযোগে কৃষকদের সংবাদ সম্মেলন। মঙ্গলবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের চর চামারদহ এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চর চামারদহ এলাকায় এক পুলিশ সুপারের (এসপি) বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহার করে কৃষকদের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া ইউনিয়নের চর চামারদহ এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

যাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, সেই পুলিশ সুপার হলেন আবদুল্লাহ আরেফ। ফরিদপুর নৌপুলিশের দায়িত্ব পালন করা এই এসপি বর্তমানে পুলিশের খুলনা র‍েঞ্জে কর্মরত বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষকেরা অভিযোগ করে বলেন, আবদুল্লাহ আরেফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক কেরানীগঞ্জের আকছাইল মৌজার অনেক কৃষকের জমি দখলে রেখেছেন। তিনি প্রায় তিন বছর আগে চর চামারদহ এলাকায় কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করেন। সেখানে তিনি একটি বাংলো বানিয়েছেন। স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারীর সহায়তায় তাঁর ক্রয় করা জমির আশপাশের কৃষকদের জমি নানাভাবে দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি কৃষকদের। এ বিষয়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন।

কৃষক ও স্থানীয় কালিমুল্লাহ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার পৈতৃক সম্পত্তির ৭৮ শতক কৃষিজমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ শতক জমি আবদুল্লাহ আরেফ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এ বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি–ধমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, বাড়াবাড়ি করলে মামলা দিয়ে জেলে ঢোকানো হবে। এলাকার রূপচান মিয়ার ছেলে হযরত আলী এসপির পক্ষ নিয়ে রাতের আঁধারে আমাদের জমিতে খুঁটি স্থাপন করছেন।’

৭০ বছর বয়সী কৃষক আন্নাফ আলী বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আরেফের জমির পাশে আমার মালিকানাধীন ১০ শতক জমি রয়েছে। গত মার্চ মাসে তাঁর নির্দেশে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আমার জমিতে খুঁটি স্থাপন করে। এ ঘটনায় আমি কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি।’ একই রকম ভোগান্তির কথা জানান আরেক ভুক্তভোগী কৃষক নাসিরউদ্দীন (৬০)।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসপি আবদুল্লাহ আরেফ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারও জমি দখল করার প্রশ্নই ওঠে না। ওই জমি মসজিদ ও মাদ্রাসার। জমিটি অন্য একজন নিজের বলে দাবি করেছিলেন। পরে মাপামাপি করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন ওই ব্যক্তির আর কোনো অভিযোগ থাকার কথা নয়।’

এ বিষয়ে কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগে কৃষক আন্নাফ আলী কৃষিজমি দখলচেষ্টার অভিযোগে আবদুল্লাহ আরেফের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় জিডি করেন। জিডি তদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অনুমতি পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।