
চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী এলাকায় রাস্তার পাশে ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন চালক শেখ আহমেদ। ঠিক তখনই নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সেখানে পৌঁছান চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ভ্যানচালকের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে করমর্দন করেন, দোয়া চান। এতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ আহমেদ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ভোটারদের কাছে গিয়ে এভাবেই প্রচারণা চালাতে দেখা যায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। এ সময় তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষে ভোট চান। এর আগে তিনি নগরের কাট্টলী এলাকায় মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন।
শুধু আমীর খসরু নন, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা আজ থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ভ্যানচালক শেখ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ থাকলে অবশ্যই যাব। এত দিন ভোট দিতে পারিনি।’
প্রচারণাকালে কখনো হাত নেড়ে, কখনো দোকানদার ও পথচারীদের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায় আমীর খসরুকে। রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন মানুষ। কেউ ধানের শীষ প্রতীক এনে উপহার দেন, কেউ ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় হাতমাইকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
প্রচারণার এক পর্যায়ে কদমতলী হয়ে পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকায় গিয়ে আমীর খসরু তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পরে সেখান থেকে আবার গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় রাস্তার দুই পাশে মানুষের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। ভোটারদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রচারপত্র।
পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকার দোকানকর্মী মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জীবনে এই প্রথম ভোট দেব। এমন প্রচারণা দেখে ভালো লাগছে। প্রার্থীরা আমাদের কাছে আসছেন।’
ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে। ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমেই সেই মালিকানা প্রতিষ্ঠা হবে। গণতন্ত্র প্রবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা আমরা জনগণের কাছে বলছি।’
কদমতলী মোড় থেকে শুরু হওয়া গণসংযোগ মাদারবাড়ী ডিটি রোড, দুই নম্বর গলি, যোগীচাঁদ মসজিদ লেন, পানির ট্যাংকি, মাঝিরঘাট রোড, মরিচ্চাপাড়া, স্টেশন কলোনি, নড়াপাড়া, কামাল গেট, দারোগাহাট, মালুম মসজিদ হয়ে বাংলাপাড়া রোডের সাহেবপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
এ সময় প্রচারণায় আরও অংশ নেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী, কাজী বেলাল, শওকত আজম খাজা, বিএনপির সদস্য মো. সালাউদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতারা।