তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ভোলা সফরে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। বুধবার ভোলায় পৌঁছে নতুনবাজার চত্বর পথসভায় বক্তব্য দেন
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ভোলা সফরে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। বুধবার ভোলায় পৌঁছে  নতুনবাজার চত্বর পথসভায় বক্তব্য দেন

বরিশাল-ভোলা সেতুর ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায়: তথ্যমন্ত্রী

বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণের দাবি পূরণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেছেন, প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। একই সঙ্গে ভোলার সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান মন্ত্রী।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এই প্রথম নিজ জেলা সফরে গেলেন ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান। আজ বুধবার দুপুরে বরিশাল থেকে স্পিডবোটে ভোলা সদর উপজেলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা তথ্য অফিস এবং বিজেপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমরা সবাই এ নিয়ে কাজ করছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কিন্তু কেউ যেন এ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ায় বা ভোলার মানুষকে বিভক্ত না করে। সরকার একই সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়েও বিভিন্ন দিক বিবেচনা করছে।
আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
ভোলায় পৌঁছে পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান

খেয়াঘাট থেকে শহরের নতুন বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষ অবস্থান নিয়ে তথ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পরে শহরের নতুন বাজার চত্বরে পথসভায় তথ্যমন্ত্রী বক্তব্য দেন। এ সময় ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ জেলার যোগাযোগব্যবস্থা, চিকিৎসা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান জানান, এ সেতু ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সংসদে একাধিকবার কথা বলেছেন। ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এ নিয়ে কাজ করছি। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কিন্তু কেউ যেন এ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ায় বা ভোলার মানুষকে বিভক্ত না করে। সরকার একই সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়েও বিভিন্ন দিক বিবেচনা করছে।’

ভোলার উন্নয়নে সরকারের আরও কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেন আন্দালিভ রহমান। জেলায় মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং শহরের সড়ক উন্নয়নের জন্য বড় অঙ্কের প্রকল্প সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। নির্বাচনে যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চান। জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক দলের জন্য তাঁর দরজা খোলা থাকবে বলেও বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন।

কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দালিভ রহমান। ভোলা সদর আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও তাঁকে জানাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আন্দালিভ রহমান বলেন, ২০০৮ সালে ভোলার মানুষ তাঁকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে ভোলার মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ জন্য তিনি নিজেকে ভোলাবাসীর কাছে ঋণী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভোলায় কোনো এমপি বা মন্ত্রী হিসেবে নয়, মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবেই সারা জীবন থাকতে চাই।’