সিলেট নগরের জল্লারপার এলাকায় পানির সংকট নিরসনের দাবিতে কলস ও বালতি নিয়ে সিটি করপোরেশনে গিয়ে ছয় যুবক আটক হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে
সিলেট নগরের জল্লারপার এলাকায় পানির সংকট নিরসনের দাবিতে কলস ও বালতি নিয়ে সিটি করপোরেশনে গিয়ে ছয় যুবক আটক হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে

পানির দাবিতে সিটি করপোরেশনে গিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে ৬ যুবক আটক

সিলেট নগরের জল্লারপার এলাকায় পানির সংকট নিরসনের দাবিতে কলস ও বালতি নিয়ে সিটি করপোরেশনে গিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে ছয় যুবক আটক হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলায় পানি শাখায় এ ঘটনা ঘটে।

সি‌টি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, জল্লারপার এলাকার প্রায় ২৫ জন বাসিন্দা পানির দাবিতে কলস ও বালতি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিটি করপোরেশনে যান। তাঁরা করপোরেশনের ষষ্ঠ তলায় পানি শাখায় গিয়ে পানির সংকটের বিষয়টি জানান। একপর্যায়ে পানি শাখার কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় পা‌নির দা‌বিতে আসা কিছু যুবক উত্তে‌জিত হয়ে ষষ্ঠ তলায় নির্মাণাধীন কক্ষের জন‌্য পড়ে থাকা ইট-পাটকেল ছুড়েন। এতে সি‌টি করপোরেশনের কয়েক‌টি কাঁচের জানালা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা ছয়জনকে আটক করে নিচতলায় নিয়ে যান। পরে করপোরেশন ভবনের জানালা ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ ডেকে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের থানাহাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. মঈনুল জাকির। রাত আটটা পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তাঁরা। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদার বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে ঠিকভাবে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ছয়জন আটকের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক জানান, গত সোমবারও এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনে গিয়ে পানির সংকটের কথা জানিয়েছিলেন। তখন কর্মকর্তারা তিন দিনের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার আবারও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা সিটি করপোরেশনে যান।

এহছানুল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পানির দাবি জানাতে গিয়েছিলাম। সিটি করপোরেশনে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। অন্যায়ভাবে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।’

এদিকে সিটি কর্তৃপক্ষ বলছে, নগর ভবনের ভেতরে ঢুকে অফিসের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে এভাবে আন্দোলন করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব দাবি তারা গণতান্ত্রিকভাবে অহিংস পদ্ধতিতে করতে পারতেন। কিন্তু যে পদ্ধতি তারা বেছে নিয়েছিলেন, সেটা সঠিক ছিল না।