
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আজ রোববার সন্ধ্যায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচনের সবচেয়ে বড় স্টেক হোল্ডার যাঁরা, রাজনৈতিক দল এবং ভোটাররা—তাঁরাও প্রস্তুত। ভোটাররা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ভোট দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘কতগুলো দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে পুঞ্জীভূত করে একটা গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। সেই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান দাবিটা ছিল কিন্তু পরিবর্তন। কোটা সংস্কার দিয়ে শুরু হলেও যে ধরনের রাষ্ট্রীয় অত্যাচার এবং বর্বরতার মুখোমুখি হয়েছিল ছাত্র-জনতা, তখন থেকেই পরিবর্তনের একটা দাবি ওঠে।’
অন্তর্বর্তী সরকারকে গতানুগতিক একটি নির্বাচন করে দিয়ে যাওয়ার জন্য আনা হয়নি বলে উল্লেখ করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘তিনটা বড় এজেন্ডা নিয়ে, বড় ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা প্রথম থেকেই কাজ করছি। একটা হচ্ছে সংস্কার, দ্বিতীয় হচ্ছে বিচার, তৃতীয় হচ্ছে নির্বাচন। আমরা সংস্কার প্রশ্নে যে বা যাঁরা যে বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাঁদের দিয়ে সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে মতামত এনেছি।’
জুলাই শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার শুভ সূচনা করতে আগামী গণভোট নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে সবাইকে সুচিন্তিত মত দেওয়ার আহ্বান জানান এই উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রংপুরের গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মজিদ আলী, বিভাগীয় তথ্য পরিচালক মোফাকখারুল ইকবাল ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বক্তব্য দেন।
দুই দিনের সফরে আজ নীলফামারী ও রংপুরে আসেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। আজ রাত ৯টার দিকে তাঁর চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সার্কিট হাউসে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। আগামীকাল সোমবার সকালে তিনি তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করবেন।