নিহত শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন
নিহত শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন

আজমুল হত্যায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, তিন আসামির স্বীকারোক্তি

খুলনায় চুরির অভিযোগ তুলে বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন তিন শিক্ষার্থীসহ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সর্বশেষ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের ১৮ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৬)। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তাঁকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোটেকনোলজি বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতাপ সরকার ও হল গেটের সামনে একটি জুসের দোকানের মালিক তারেক হাসান রুবেল। বুধবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম খলিল তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসনাত হাবিব রিফাত।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রতাপ সরকারকে ডিবি এবং বাকি তিনজনকে এসআরবি আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর মধ্যে হাসনাত হাবিব রিফাত, প্রতাপ সরকার ও তারেক হাসান রুবেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শেখ আসিফ হোসেন এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

গত শুক্রবার রাতে প্রথমে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে আজমুল হোসেনকে পেটানো শুরু হয়। পরে মেসে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের কাপড়, টাকাপয়সাসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগ তোলা হয়। চারতলা মেস ভবনের ছাদে পেটানোর একপর্যায়ে আজমুল নিচে পড়ে মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানায়।

এ ঘটনায় আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।