সংবাদ সংগ্রহের কার্ড সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের দীর্ঘ সারি। বুধবার সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পালের কার্যালয় সামনে
সংবাদ সংগ্রহের কার্ড সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের দীর্ঘ সারি।  বুধবার সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পালের কার্যালয় সামনে

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

সাতক্ষীরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শুরুতে কড়াকড়ি আরোপ করলেও বাস্তবে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। সাংবাদিক পরিচয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী ছাড়াও ভুঁইফোড় পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত অনেকে পর্যবেক্ষক কার্ড পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক পরিচয়ে সাতক্ষীরায় এবার ভোটের সংবাদ সংগ্রহের জন্য আবেদন করেছিলেন ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে যাচাই–বাছাই করে ৭৯২ জনকে দেওয়া হয়েছে পরিচয়পত্র। সাতক্ষীরার স্থানীয় দুটি পত্রিকার দুই শতাধিক ব্যক্তি পেয়েছেন সংবাদ সংগ্রহের সাংবাদিক কার্ড। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কার্ড পাওয়া সাংবাদিকদের একটি তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। তালিকায় দেখা যায়, যাঁরা কখনো সংবাদপত্র কিংবা সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত নন, এমন কয়েকজন বিএনপি ও জামায়াত নেতার নাম রয়েছে ওই তালিকায়।

বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি নানা আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় অনেকে বলছেন, এত সাংবাদিক সাতক্ষীরায় থাকার পরও জেলাজুড়ে অনিয়ম দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির খবর পত্র–পত্রিকায় তেমন দেখা যায় না। কোনো নির্বাচন এলেই সাংবাদিকের ভিড় লেগে যায়। বিতর্কের মুখে কার্ড দেওয়ার পরও কাগজপত্র সঠিক না থাকায় পত্র জারি করে মুহিত গাজী নামের একজনের সংবাদ সংগ্রহের কার্ড বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল বলেন, কাগজপত্র দেখেই সংবাদ সংগ্রহের কার্ড দেওয়া হয়েছে। এরপরও যাচাই-বাছাই করা হবে। স্থানীয় কিংবা জাতীয় একটি পত্রিকায় থেকে কতজনকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য কার্ড দেওয়া যাবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে জবাবে বলেন, এমন কোনো নির্দেশনা নেই। যাঁরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দেবেন, তাঁদেরকেই দেওয়া যাবে।