হালুয়াঘাট পৌর বাজারে মহিলা মার্কেট চত্বরে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সালমান ওমর। বুধবার বিকেলে
হালুয়াঘাট পৌর বাজারে মহিলা মার্কেট চত্বরে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সালমান ওমর। বুধবার বিকেলে

ময়মনসিংহ-১

এলাকায় ফিরে এমপি বললেন, কেউ চান্দাবাজি করতে গেলে বেঁধে রেখে খবর দেবেন

কেউ চাঁদাবাজি করলে তাঁকে বেঁধে রেখে খবর দিতে বলেছেন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমর। তিনি বলেন, ‘কেউ চান্দাবাজি করতে গেলে সে যে দলের লোক হোক, বেঁধে রেখে খবর দেবেন। কোনো চান্দাবাজের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার সীমান্ত জনপদে ঠাঁই নেই। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করবেন।’ হালুয়াঘাট পৌর বাজারে মহিলা মার্কেট চত্বরে আজ বুধবার বিকেলে তিনি এ কথা বলেন।  

সালমান ওমর হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সালমান ওমর গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। আজ বুধবার বিকেলে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আসেন। হালুয়াঘাট পৌঁছানোর পর উপজেলার সরচাপুর ব্রিজ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকেরা সালমান ওমরকে বরণ করে নেন। তাঁরা ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি নাগলা বাবজার থেকে ধারা বাজার হয়ে হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া উপজেলা সদরে যান। পরে সেখানে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

হালুয়াঘাট পৌর বাজারে মহিলা মার্কেট চত্বরে সালমান ওমর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে অত্যাচার, নির্যাতন হুমকি ও নিপীড়ন সহ্য করে আপনারা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করে যে সম্মান আর ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার ঋণ কখনো আমি শোধ করতে পারব না।’ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রিয় ব্যবসায়ী ভাইয়েরা, আপনারা নিশ্চিন্তে–নির্বিঘ্নে আপনাদের ব্যবসা পরিচালনা করবেন। আজ থেকে হালুয়াঘাট আর ধোবাউড়া থানায় কোনো প্রকার চাঁদাবাজি হতে দেব না। যারা ভয়ভীতি আর চান্দাবাজি করেছে, তাদের আমি সাবধান করে দিচ্ছি। গুন্ডামি অনেক দেখিয়েছেন, আমার সাথে গুন্ডামি দেখিয়ে লাভ নাই। বহুত বড় গুন্ডা পার কইরা আজ এই জায়গা আসছি। সময় আছে, আপনারা ভালো হয়ে যান।’  

সালমান ওমর আরও বলেন, ‘যাঁরা আমাদের বলছিলেন ১২ তারিখের পর হালুয়াঘাটে থাকতে দেবেন না, আমি আজ তাঁদের বলছি, আপনারা হালুয়াঘাটে থাকেন। কিন্তু কাল থেকে নিয়ত করে ফেলেন, চিল্লায় চলে যান, তওবা করে ঠিক হয়ে যান, সময় আছে। এসব চান্দাবাজি, ধান্ধাবাজি আর হালুয়াঘাটে চলবে না, হালুয়াঘাট মুক্ত। আমি যত দিন বেঁচে আছি, হালুয়াঘাটে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি হতে দেব না।’