মো. সোহাগ চৌধুরী
মো. সোহাগ চৌধুরী

পুলিশ দেখে পালানোর সময় ড্রেনে পড়ে আসামির মৃত্যু

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, ড্রেনে পড়ে আহত হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তবে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, মামলার বাদী ও পুলিশের ধাওয়ার পর মারধর করে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নবীর বাজার এলাকায় ওই ব্যক্তি আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. সোহাগ চৌধুরীর (২৮)। তিনি নবীর বাজার এলাকার নুর নবী চৌধুরীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মামলায় মো. সোহাগ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সোহাগের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে মো. লিটন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরোধ রয়েছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ এনে সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করেন লিটন। গতকাল বিকেলে চরজব্বর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিঠুন চক্রবর্তী ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ম্যানবাবু বড়ুয়া সাদাপোশাকে নবীর বাজার এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় তাঁরা বাজারে থাকা মো. লিটনের সঙ্গে দেখা করেন। লিটনের সঙ্গে দুই পুলিশ সদস্যকে দেখে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন সোহাগ।

সোহাগের ছোট ভাই মো. আকবর প্রথম আলোকে বলেন,‘সাদাপোশাকে আসা পুলিশ সদস্যরা এবং মামলার বাদী লিটনসহ তিন-চারজন মিলে আমার ভাইকে ধাওয়া দেন। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টার সময় বাজারের পশ্চিম পাশের একটি কাঁচা ড্রেনে পড়ে যান। এ সময় আমার ভাইকে বাদী ও তাঁর লোকজন মারধর করেছেন।’

মো. আকবর বলেন, ‘লিটন ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন আমার ভাইকে মারধর করে অচেতন অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা ছুটে গিয়ে ভাইকে উদ্ধার করে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

আকবর অভিযোগ করেন, চরজব্বর থানাকে ঘটনার বিস্তারিত জানানোর পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থাও করেনি পুলিশ। সোহাগের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে দাবি করেন আকবর।

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে মো. লিটনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লিটন ও তাঁর সহযোগীরা ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। নবীর বাজারে লিটনের একটি দোকান রয়েছে, সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

সোহাগকে গ্রেপ্তারের অভিযানে অংশ নেওয়া চরজব্বর থানার এসআই মিঠুন চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজির একটি মামলায় পরোয়ানা থাকায় তাঁরা সোহাগকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিলেন। তবে তাঁদের মোটরসাইকেল দেখে সোহাগ পালিয়ে যাওয়ায় তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসামি নিজে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিচে পড়ে আহত হয়েছেন। মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।’

জানতে চাইলে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আসামিকে যেহেতু পুলিশ হেফাজতে নিতে পারেনি, তাই এই মৃত্যু নিয়ে পুলিশের করণীয় কিছু নেই। নিহত ব্যক্তির পরিবার যদি কোনো অভিযোগ করে, সেটি তাদের বিষয়।

আজ রোববার সকালে সোহাগের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর লাশ দাফন শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় একটি মানববন্ধন করেন। কর্মসূচিতে সোহাগের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করেন এলাকাবাসী ও তাঁর স্বজনেরা।