কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীর বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। গতকাল শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায়
কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীর বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। গতকাল শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায়

কুষ্টিয়ায় সাবেক মেয়র আনোয়ার আলীর বাড়িতে রাতে পুলিশের তল্লাশি

কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলীর (৮৫) বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহরের আড়ুয়াপাড়ায় তাঁর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান শেষে সেখানে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছে গোপন সংবাদ ছিল, এখানে (আনোয়ার আলীর বাড়িতে) নিষিদ্ধঘোষিত কিছু সদস্য আছেন। সে কারণে আমরা এখানে তল্লাশি চালিয়েছি। আমরা কাউকে পাইনি। আজ রাতে আর তল্লাশি হবে না।’

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে আটটার পর পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য আড়ুয়াপাড়া এলাকায় আনোয়ার আলীর বাড়ির সামনে আসেন। সেখানে অন্তত ৮ থেকে ১০টি পুলিশের গাড়ি সড়কের ওপর অবস্থান নেয়। পুলিশের বেশ কয়েকজন নারী সদস্যও ছিলেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকারের নেতৃত্বে একটি দল বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দুই ঘণ্টা ধরে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষসহ ছাদ ও ছাদে থাকা পানির ট্যাংকের ভেতরে তল্লাশি চালায়। কোনো কিছু না পেয়ে পুলিশ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বের হয়ে যায়। তবে পুরো সময় কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বাড়ির বাইরে প্রধান ফটকের সামনে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও পুলিশ সদস্য ও র‌্যাবের সদস্যরা বেশ কয়েকটি পিকআপ গাড়ি নিয়ে অবস্থান করছিলেন।

অভিযান চলাকালে বাড়ির সামনে লোকজন জড়ো হন। গতকাল রাতে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায়

এদিকে দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে আনোয়ার আলীর বাড়ির সামনে হঠাৎ শতাধিক মানুষ জড়ো হন। ৪০ থেকে ৫০ নারী বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। তাঁরা বলতে থাকেন, কেন এই বাড়িতে পুলিশ? আনোয়ার আলী বৃদ্ধ ও ভালো মানুষ। তাঁর বাড়িতে গভীর রাতে পুলিশ কেন? কোনো ওয়ারেন্ট বা তল্লাশির কাগজ আছে কি না, তাঁরা জানতে চান। তা ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বাড়ির ভেতরে পুলিশ কী করছে, সে বিষয়েও তাঁরা জানতে চান। কয়েকজন ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের গেট থেকে সরে যেতে বলে।

গতকাল রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযান শেষে পুলিশের তিন থেকে চারটি গাড়ি চলে যাচ্ছে। কয়েকটি গাড়ি বাড়ির সামনে ছিল। সেখানে ওসির নেতৃত্বে অন্তত ৩০ পুলিশ সদস্য ছিলেন। বাড়ির ভেতরে ও বাইরে শতাধিক নারী–পুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন। বাড়ির ভেতরে দোতলায় নারী–পুরুষ।

একটি কক্ষে চেয়ারে বসে ছিলেন সাবেক মেয়র আনোয়ার আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে পুলিশ এসেছিল আমার ছেলেকে খুঁজতে। আজ রাতে আবার এসেছে। তবে আজ আমাকে কিছু বলেনি বা আমার কক্ষে আসেনি। কারও বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট নেই বা বাড়ি তল্লাশি করতে হলে ওয়ারেন্ট লাগে, সেসবের কোনো বালাই নেই। আমি কি সন্ত্রাসী বা আমার নামে কোনো কেস আছে?কিছুই আমার জানা নেই।’

আনোয়ার আলীর স্ত্রী আকতার জাহান বলেন, ‘পুলিশ প্রতিটি ঘরে তল্লাশি করেছে। ঘরের বাথরুম–আলমারি খুলে খুলে দেখেছে। ছাদে গেছে, এমনকি পানির ট্যাংক পর্যন্ত তল্লাশি করেছে। তবে তারা আমাদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করেনি।’

বাড়ির নৈশ প্রহরী হায়দার মোহাম্মদ বলেন, ‘গেটে এসে পুলিশ জিজ্ঞাসা করে তনু (আনোয়ার আলীর ছেলে) বাড়ি আছে নাকি। এরপর চাবি আনতে বলে। তারা গালাগাল করে একপর্যায়ে বলে, তনুকে সরিয়ে ফেলেছি। তালা ভেঙে ওপরে চলে যায়। প্রতিটি রুমে গেছে। নিচতলায় ক্যামেরার একটা মেশিন (সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থাকা স্টোরেজ) নিয়ে গেছে।’