নিতাই রায় চৌধুরী
নিতাই রায় চৌধুরী

নিতাই রায় চৌধুরী

সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের ওপর নির্ভর করছে মধ্যপন্থার ভবিষ্যৎ

দেশে গত এক দশকে পাঠাগার কমেছে, সিনেমা হল বন্ধ হয়েছে, সংকুচিত হয়েছে সাংস্কৃতিক পরিসর। এমন শূন্যতায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে উগ্র ও একরৈখিক মতাদর্শ। সংস্কৃতি খাত এখন রাজনৈতিক স্থিতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে মৌলিক প্রশ্ন, সংস্কৃতিকে কী ‘সফট’ খাত হিসেবে দেখবে নাকি ভবিষ্যৎ রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত গড়ার কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করবে? এমন প্রেক্ষাপটে সংস্কৃতি, উদার মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে কথা বলেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। মাগুরা সার্কিট হাউসে ১ মার্চ তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর মাগুরা প্রতিনিধি কাজী আশিক রহমান

প্রশ্ন

এবারের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলেও ডানপন্থী দলগুলো অনেক ভোট পেয়েছে। সংস্কৃতি খাতকে গুরুত্ব না দেওয়ায় সমাজে ডানপন্থার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন কি?

নিতাই রায় চোধুরী: যতটা উত্থান মনে করা হচ্ছে, ততটা নয়। তবে এটা ঠিক সামগ্রিকভাবে তাদের ভোট বেড়েছে। এই উত্থানের পেছনে বিগত সরকারের দায় আছে। কারণ, গত ১৬ বছর তারা মেগা প্রজেক্ট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দুর্নীতির আড়ালে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। একটি জাতির মননশীলতা তৈরি ও গুণগত পরিবর্তনের জন্য যে সাংস্কৃতিক বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, তা পুরোপুরি অবহেলিত ছিল। যখন বেসরকারি পাঠাগার বন্ধ হয়ে যায়, চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংস হয়ে যায়, তখন সেই শূন্যস্থানে উগ্রবাদী আদর্শ হানা দেবে— এটাই স্বাভাবিক। এ জন্য তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ একতরফা আদর্শের দিকে ঝুঁকেছে।

প্রশ্ন

গত ১৬ বছরে সিনেমা হল ও পাঠাগার কমে যাওয়ার বিষয়টিকে আপনি রাজনৈতিক অবহেলা হিসেবে দেখেন?

নিতাই রায় চৌধুরী: আমি একে নিছক প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখি না, এটি রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন। বিগত সরকার সংস্কৃতি খাতের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ ছিল। উন্নয়ন বলতে তারা মূলত দৃশ্যমান অবকাঠামোকেই বুঝিয়েছে। কিন্তু একটি জাতির আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেই উপলব্ধি নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়নি। সৃজনশীলতার চর্চা যখন স্তিমিত হয়ে যায়, পাঠাগার ফাঁকা থাকে, সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যায়, তখন সমাজ ধীরে ধীরে চিন্তাশূন্য হয়ে পড়ে। এই শূন্যতাই উগ্রপন্থী আদর্শ বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

প্রশ্ন

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে সব সময় ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ মনে করা হয়। এই মন্ত্রণালয়ের বাজেটও নগণ্য। এর মধ্যে কীভাবে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির ঝুঁকি মোকাবিলা করবেন?

নিতাই রায় চৌধুরী: সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু। যখন একটি জাতি তার শিকড়, ইতিহাস ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা ভুলে যায়, তখন সেখানে উগ্রবাদ দানা বাঁধে। আমরা এই মন্ত্রণালয়কে কেবল বিনোদন খাত হিসেবে না দেখে জাতির গুণগত উন্নতির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বাজেট সীমিত, এটি সত্য। কিন্তু কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার হলে সীমিত সম্পদ দিয়েও বড় পরিবর্তনের সূচনা করা যায়। আমরা প্রথমত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে চাই—জেলা ও উপজেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় করা, পাঠাগার আধুনিকায়ন, মঞ্চনাটক ও সংগীতচর্চায় ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া। দ্বিতীয়ত সংস্কৃতিকে অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে চাই, যাতে এটি কেবল অনুদাননির্ভর না থেকে আয়ের ক্ষেত্রও তৈরি করে।

প্রশ্ন

বাংলাদেশে সরকারি পাঠাগার মাত্র ৭১টি। অর্থাৎ প্রতি ২৫ লাখ মানুষের জন্য একটি পাঠাগার—বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

নিতাই রায় চৌধুরী: পরিসংখ্যানটি সত্যিই লজ্জাজনক। যেখানে প্রতিটি গ্রামে পাঠাগারের প্রয়োজন ছিল, সেখানে উপজেলাগুলোতেও পাঠাগার নেই। অনেক পাঠাগারের অবস্থা জরাজীর্ণ। প্রযুক্তিগত কারণে মানুষের পড়ার অভ্যাস কমেছে। তরুণ প্রজন্মকে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আধুনিক মানের পাঠাগার প্রয়োজন। পাশাপাশি পাঠচক্র, পুরস্কারের আয়োজনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন। এগুলো নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে।

প্রশ্ন

একটা গবেষণায় দেখা গেছে অর্থাভাবে ৭০০টি বেসরকারি পাঠাগার বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো আবার চালু করার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

নিতাই রায় চৌধুরী: এটা আমাদের সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের নির্মম উদাহরণ। যেসব পাঠাগার বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায় ও নতুন পাঠাগার স্থাপনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া কীভাবে সহজ ও স্বচ্ছ করা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করব। একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের চিন্তা রয়েছে, যাতে স্থানীয় উদ্যোগ, সরকারি সহায়তা ও সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতা—তিনটির সমন্বয়ে পাঠাগারগুলো টেকসইভাবে পরিচালিত হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো সরকার একা সবকিছু করতে পারবে না। সংস্কৃতির বিকাশকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সমাজের পুঁজিপতি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সচ্ছল নাগরিকদের আধুনিক মানের পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা চাই পাঠাগার কেবল বই রাখার ঘর না হয়ে জ্ঞানচর্চা, বিতর্ক, সৃজনশীলতা ও নাগরিকবোধ গঠনের কেন্দ্র হয়ে উঠুক।

প্রশ্ন

বিগত সরকারের আমলে বই কেনার ক্ষেত্রে মন্ত্রী-এমপিদের ২০ শতাংশ কোটা ছিল। এমনকি সরকারি কর্মকর্তার লেখা ‘আমার স্ত্রীর জন্মদিনে লেখা ৫০ কবিতা’ শীর্ষক বইও কেনা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের পদক্ষেপ কি?

নিতাই রায় চৌধুরী: বই কেনার ক্ষেত্রে কোটা থাকার বিষয়টি অযৌক্তিক ও হাস্যকর। এ ধরনের কোনো হাস্যকর কোটা রাখা যাবে না। আমরা একটি নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জুরিবোর্ড গঠন করব, যারা কেবল গুণগত মান বিচার করে বই নির্বাচন করবে। স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে বই কেনা হবে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্ন

চলচ্চিত্র তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন হলেও এটি সমাজের মননশীলতা গঠনে বিরাট ভূমিকা রাখে। চলচ্চিত্রশিল্প পুনরুজ্জীবনে আপনাদের মন্ত্রণালয়ের ভাবনা কী?

নিতাই রায় চৌধুরী: যদিও চলচ্চিত্র সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়, তবুও এর সামাজিক প্রভাবের কারণে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করব।

প্রশ্ন

অতীতে উদীচী, ছায়ানটসহ সিনেমা হলে নৃশংস বোমা হামলা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর হামলা ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শিল্পীদের নিরাপত্তায় আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন?

নিতাই রায় চৌধুরী: কোনো অপশক্তি যাতে সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করব। উদীচী বা ছায়ানটের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের ওপর হামলা মানে আমাদের ইতিহাসের ওপর হামলা। উগ্রবাদী শক্তির আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্য সংস্কৃতি খাতকে ধ্বংস ও নিষ্ক্রিয় করা, প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর কণ্ঠরোধ করা, যে কারণে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো মিডিয়ায় হামলা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রতিটি জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার চেষ্টা করব। শিল্পীরা যেন নির্ভয়ে শিল্প চর্চা করতে পারেন, সেটি আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

প্রশ্ন

ফৌজদারি অপরাধ না হওয়া সত্ত্বেও শুধু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অনেক নাট্যদলের নাটক মঞ্চস্থ বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

নিতাই রায় চৌধুরী: এটি অত্যন্ত অন্যায্য ও অগণতান্ত্রিক। শিল্পীকে বিচার করতে হবে তাঁর শিল্প দিয়ে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাবনা দিয়ে নয়। তা ছাড়া মানুষের ভাবনা পরিবর্তনশীল। একজন শিল্পীর রাজনৈতিক দর্শন যা–ই হোক না কেন, যদি তাঁর শিল্পকর্ম মানুষের মনে আলো ছড়ায়, তবে তা বন্ধ করা যাবে না। মব জাস্টিস বা পেশিশক্তির জোরে কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাবে না। আমরা এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।

প্রশ্ন

গণ-অভ্যুত্থানের পর শিল্পীদের কনসার্ট বন্ধসহ শিল্পের বিভিন্ন শাখায় যে স্থবিরতা বিরাজ করছে, তা কাটাতে কী পদক্ষেপ নেবেন?

নিতাই রায় চৌধুরী: সংগীত, মঞ্চনাটক ও চিত্রকলা—সব শাখাকে চাঙা করতে আমরা পৃষ্ঠপোষকদের আমন্ত্রণ জানাব এবং শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করব। শিল্পের বাজার বড় করাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রশ্ন

দেশের মঞ্চনাটকের কর্মীরা যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভালো কাজ করেন, তাঁদের নির্দিষ্টসংখ্যক শিল্পীকে বেতন দেওয়ার (স্যালারি গ্র্যান্ট) দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। পাশের দেশ ভারতেও অনেক বছর ধরে ‘স্যালারি গ্র্যান্ট’ চালু আছে। নাট্যকর্মীদের এ দাবি পূরণের বিষয়ে কী ভাবছেন?

নিতাই রায় চৌধুরী: স্বাধীনতার পর আমাদের সংস্কৃতিচর্চায় সবচেয়ে উন্নতি করেছে মঞ্চনাটক। সরকার সব সময়ই মঞ্চনাটকের সঙ্গে থাকবে এবং সব রকমের প্রণোদনা দিয়ে যাবে। একটি দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়নের সূচক তার মঞ্চনাটক। পৃথিবীর সব দেশেই মঞ্চনাটকের ক্ষেত্রে সরকার বিপুল সাবসিডি দিয়ে থাকে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে বড় একটি দেশ ভারত সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে দেশপ্রেমকে জাগ্রত রাখে। অথচ ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা বিভক্ত হয়ে পড়েছি। স্যালারি গ্র্যান্ট চালু হলে দলগুলোর মধ্যে পেশাদারি মনোভাব তৈরি হবে। নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে বাছাই করে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি দলকে স্যালারি গ্র্যান্ট দেওয়া যায় কি না, সেটা আমরা দেখব। পাশাপাশি নাট্যোৎসব, নতুন প্রযোজনা নির্মাণ, সেমিনার, কর্মশালা প্রভৃতি কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়মিত অনুদান প্রথা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশ্ন

জেলা শহরগুলোতে নাটক মঞ্চায়নের উপযোগী মিলনায়তন নেই বলে অভিযোগ আছে নাট্যকর্মীদের। এমন মিলনায়তন নির্মাণের পরিকল্পনা আছে কি?

নিতাই রায় চৌধুরী: গত ১৬ বছরে দুর্নীতির সুযোগ খুঁজতে অনেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারের চিন্তা করা হয়নি। আমরা বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ব্যবহারের চিন্তা করব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সামগ্রিক ক্ষেত্রে অবকাঠামোর চেয়ে গুণগত উন্নয়নের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। বিদ্যমান মিলনায়তনগুলো সংস্কারের মাধ্যমে নাটক মঞ্চায়নের উপযোগী করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব আমরা। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করব। এটা আমাদের সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া নাটক মঞ্চায়নের জন্য প্রতিবছর বিশেষ পদক প্রদান করা হবে।

প্রশ্ন

শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০০১ থাকলেও আইনের বিধি বা বাস্তবায়ন কাঠামো এখনো গেজেট প্রকাশ বা প্রয়োগ হয়নি। এ ছাড়া কপিরাইট আইন যুগোপযোগী নয় বলে অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কি?

নিতাই রায় চৌধুরী: আমরা সংশ্লিষ্ট খাতের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে কপিরাইট আইন যুগোপযোগী করার চিন্তা করব। যুগোপযোগী কপিরাইট আইন বাস্তবায়ন করা হলে শিল্পীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে শিল্প খাতের প্রসার বাড়বে।

প্রশ্ন

বাউল গান আমাদের স্বতন্ত্র ধারা হলেও বাউলদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তাঁদের আলাদা জীবনধারা আছে। তাঁদের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি?

নিতাই রায় চৌধুরী: বাউল গান আমাদের গর্ব। এটি ইউনেসকো স্বীকৃত আমাদের অনন্য সম্পদ। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়—আমরা বাউলদের গান শুনতে পছন্দ করলেও তাঁদের ব্যক্তি জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছি। উগ্রবাদী শক্তি আমাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে চাইছে। বাউলদের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি আমরা ভাবব। বাউলদের জন্য বিশেষ কল্যাণ তহবিল গঠন করা যায় কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে।

প্রশ্ন

আপনি কি মনে করেন সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে মধ্য বা উদারপন্থী রাজনীতি টেকসই হবে?

নিতাই রায় চৌধুরী: অসম্ভব। রাজনীতি কেবল ভোট ব্যাংক নয়, এটি একটি জীবনাদর্শ। সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ছাড়া আমরা মানুষের মনের গভীরে পৌঁছাতে পারব না। সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের ওপর নির্ভর করছে মধ্যপন্থার ভবিষ্যৎ। যদি আমরা শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রচার করতে না পারি, তবে দীর্ঘ মেয়াদে দেশ আবারও উগ্রবাদের অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে। আমাদের কাছে সংস্কৃতিই হলো গণতন্ত্র রক্ষার শ্রেষ্ঠ বর্ম।