বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর করে দোতলার টিনের ছাউনি ও বেড়া খুলে ফেলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের ফকিরবাড়ি সড়কে
বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয় ভাঙচুর করে দোতলার টিনের ছাউনি ও বেড়া খুলে ফেলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের ফকিরবাড়ি সড়কে

বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুট

বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরের ফকিরবাড়ি সড়কে অবস্থিত কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়। ভাড়াসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকপক্ষ ভাঙচুর করেছে বলে দলের নেতা–কর্মীদের অভিযোগ।

দোতলা টিনশেড বাড়িটির নিচতলায় ওয়ার্কার্স পার্টির পাশাপাশি ছাত্র মৈত্রী, যুব মৈত্রী, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন এবং দ্বিতীয় তলায় গণশিল্পী সংস্থার কার্যক্রম চলে আসছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাড়িটির মালিক বরিশাল মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজামুল হক আত্মগোপনে থাকায় ভাড়া বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে পরিশোধ করা হতো। সর্বশেষ এক মাসের ভাড়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ অজুহাতে কার্যালয়টি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, বাড়ির মালিক নিজামুল হকের ছেলে মো. তামিম কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ের দোতলার একটি অংশ ভাঙচুর করেন। এ সময় নিচতলার চেয়ার, টেবিল, ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয় এবং একটি স্ট্যান্ড ফ্যান, একটি সিলিং ফ্যানসহ কিছু মালামাল নিয়ে যান তাঁরা। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি এস এম নজরুল হক। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন তাঁরা। নিয়মিতভাবে পার্টি অফিসের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে এবং ভাড়াসংক্রান্ত কাগজপত্রও রয়েছে।

বরিশাল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কোনো নোটিশ ছাড়া এভাবে ভাঙচুর করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিন্দনীয়। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।’

আত্মগোপনে থাকায় বাড়ির মালিক নিজামুল হক ও তাঁর ছেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। বাড়ির মালিক ও ভাড়াটের দ্বন্দ্ব।