
মায়ের হাত ধরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল আট বছরের শিশু মো. ইয়ামিন। এরই মধ্যে হঠাৎ হাত ছুটে যায়। আর সেই মুহূর্তেই একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক মায়ের চোখের সামনে ইয়ামিনকে চাকার নিচে নিয়ে থেঁতলে চলে যায়। পাকা সড়কের মাঝ বরাবর অনেক দূর ইয়ামিনকে টেনে নিয়ে যায় ট্রাকটি। সড়কের ওই অংশ লাল রক্তে ভিজে ওঠে। নিজের চোখের সামনে এ দুর্ঘটনা দেখে জ্ঞান হারান ইয়ামিনের মা বকুল বেগম।
আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চরজব্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত ইয়ামিন একই উপজেলার চর ক্লার্ক ইউনিয়নের চর বায়েজিদ গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে। চোখের সামনে ছেলের এমন মৃত্যু দেখে স্বাভাবিক হতে পারছেন না বকুল বেগম। ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে থানা চত্বরে নির্বাক বসেছিলেন তিনি।
চরজব্বর থানা চত্বরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বকুল বেগম বলেন, তাঁদের বাড়িটি মেঘনার ভাঙনের মুখে পড়েছে। তাই নিরুপায় হয়ে পরিষ্কার বাজার এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন নতুন বাড়ি করার জন্য এক খণ্ড জমি দেখতে। আসার সময় সঙ্গে ইয়ামিন ও তার ভাইকে নিয়ে আসেন। দুপুরে জমি দেখার পর ছেলেদের নিয়ে চর বায়োজিদে ফিরে যাওয়ার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক (ড্রাম ট্রাক) তাঁর ছেলেকে চাপা দেয়। চোখের পলকে ছেলের মাথা থেঁতলে দেয়।
জানতে চাইলে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাকটি একই সড়কের একটি পেট্রলপাম্পে রেখে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ সেটি জব্দ করে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।