
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার রাত সোয়া আটটার দিকে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এতে ঢাকা-সিলেট ও ভৈরব-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। এ প্রতিবেদন লেখার সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
এর আগে ৪ জুন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে পৌর শহরের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় রাত নয়টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলীয় জোনে সাড়ে চার ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ওই সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছিল অন্তত ৩০ জন। প্ল্যাটফর্মে অবস্থিত ট্রেন পরিচালনা কক্ষ (কেবিন) ও রেলওয়ে থানায়ও ভাঙচুর হয়। ওই ঘটনার ছয় দিন পর বুধবার পৌর শহরের ভৈরবপুর এলাকার একাংশের সঙ্গে কমলপুর এলাকার একাংশের লোকজনের সংঘর্ষ হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই বাসস্ট্যান্ডের সঙ্গে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক যুক্ত। মহাসড়কের এক পাশে ভৈরবপুর ও অপর পাশে কমলপুর এলাকার অবস্থান। বাসস্ট্যান্ডে মাইক্রোস্ট্যান্ডের একটি কার্যালয় আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব মাইক্রোস্ট্যান্ডের সভাপতি মো. সিয়াম। তিনি পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি। তাঁর বাড়ি কমলপুর এলাকায়। মূলত বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে মাইক্রোস্ট্যান্ড পরিচালিত হচ্ছে। ভৈরবপুর এলাকার কিছু মানুষ স্ট্যান্ডে নিজেদের আধিপত্য বাড়ানোর চেষ্টা রয়েছেন। কয়েক দিন আগে ভৈরবপুর এলাকায় কয়েকজন মাইক্রোস্ট্যান্ডে যান এবং তাঁদের পছন্দের একজন চালককে মাইক্রোবাসের চালক করার কথা বলেন। কিন্তু সভাপতি তা মেনে নেননি। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছে। বুধবার ভৈরবপুর এলাকার কিছু মানুষ সন্ধ্যার পর মাইক্রোস্ট্যান্ডে ভাঙচুর চালায়। পরে সভাপতির পক্ষ ধরে কমলপুর এলাকার লোকজন ভৈরবপুর এলাকার লোকজনকে প্রতিহত করতে রাত সোয়া ৮টার দিকে দা–বল্লম নিয়ে মহাসড়কের ওপর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে গাড়ি চলাচল থেমে যায়। উভয় পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এক দিক থেকে যানজট নরসিংদীর নারায়ণপুর পর্যন্ত পৌঁছায়। অপর দিক দিয়ে আশুগঞ্জ পর্যন্ত জট সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ শুরুর কিছু সময় পর বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় ও গাড়ি না চলায় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। তখন বাসস্ট্যান্ডে থাকা দুই পক্ষের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। উভয় পক্ষ টর্চ ব্যবহার করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুরে বাসে আটকে থাকা জসিম উদ্দিন নামের এক যাত্রী মুঠোফোনে বলেন, ‘রেলপথের পর সড়কপথ বন্ধ করা হলো। এখন পানিপথে সংঘর্ষটা হবে কোন দিন। আগে থেকে জানা থাকলে আমরা মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করতে পারতাম।’
সংঘর্ষ শুরুর কিছু সময় পর ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েক জন সংঘর্ষ থামাতে উদ্যোগী হন। আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কের ওপর সংঘর্ষ হওয়ার কারণে দুর্ভোগ বড় হয়েছে। গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি গাড়ি চলাচল শুরু করার।’
এ বিষয়ে জানতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসছে।