
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগুনে পোড়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সরাসরি কাউকে দোষারোপ করছে না।
এদিকে আগামীকাল রোববার বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল ১০টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইতিমধ্যে ভোট–সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, আগুনে পোড়ার ঘটনার পর শুক্রবার রাতে কুমারখালী থানায় লিখিতভাবে একটি জিডি করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন, কে বা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিদ্যালয়ে আগুন লাগিয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের সহায়তা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেখানে প্রধান করা হয়েছে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেনকে। বাকি দুই সদস্য হলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আনিসুর রহমান ও অভিভাবক প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান। বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সোহান মোল্লাকে শোকজ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
রোববার নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী এজাজ কায়সার। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পর্যাপ্ত পুলিশের উপস্থিতিতে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান কার্যালয়ে আগুন দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাসী আগুন নেভাতে ছুটে যান। রাত আড়াইটার দিকে শৈলকুপা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের কক্ষ এবং সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের সনদ, বই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, আসবাবসহ দুটি কক্ষের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনে যদুবয়রা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ আলী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আকাশ রেজা প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরমে। ভোট নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। আকাশ ও সবুজ পক্ষ ভোট বন্ধের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। এ বছর বিদ্যালয়ে ২৪৪ ভোটের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী।
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন খান মনে করেন, ভোট বন্ধ করতে বা এক পক্ষ অপর পক্ষকে ফাঁসাতে বিদ্যালয়ে আগুন লাগিয়েছে। আগুনে বিদ্যালয়ে থাকা প্রায় ২০ বছরের নথিপত্র পুড়ে গেছে।
এলাকায় ভোটের পরিস্থিতি কেমন জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা আকাশ রেজা বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। প্রতিপক্ষ তাঁর প্রার্থী ও ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে। প্রধান শিক্ষক প্রতিপক্ষকে সরাসরি সমর্থন করছেন। শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিপক্ষ পরাজয়ের ভয়ে ভোট বন্ধ করতে বিদ্যালয়ে আগুন লাগিয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ ও তাঁর ভোটের মাঠ খুব ভালো। সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি পূর্ণ প্যানেলে জয় পাবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি কোনো পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছেন না।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহসীন হোসাইন বলেন, থানায় জিডি হয়েছে। আগুনের ঘটনায় তদন্ত চলছে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।