
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) বছরে আয় সাড়ে ১২ লাখ টাকা। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর মিলে ৫০ লাখ টাকার সম্পদ আছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার সম্পদ আছে। যদিও তাঁর চেয়ে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা হাসনাতের পেশা হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসা। তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। তবে মঞ্জুরুল আহসানের নামে বিগত সময়ে মামলা হয়েছে ২৩টি। যার কোনোটি থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন, কোনোটির কার্যক্রম স্থগিত। পেশায় ব্যবসায়ী এই রাজনীতিবিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন দুই প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ায় কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলার সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম (শহীদ)। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লায় এনসিপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, দেবীদ্বার উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা হাসনাতের জন্ম ১৯৯৮ সালে। বর্তমানে ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে তাঁর আয় নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি ১ লাখ ৫ হাজার ৫৩১ টাকা আয়কর দিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদ দেখিয়েছেন ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৯ টাকার। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর কোনো ঋণ নেই। পেশায় গৃহিণী স্ত্রীর কোনো সম্পদ নেই।
হলফনামার সম্পদবিবরণীতে হাসনাত উল্লেখ করেছেন, তাঁর কাছে নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আছে। ব্যাংকের দুটি হিসাবে আছে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা। এর বাইরে তাঁর ২৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আছে। ৬৫ হাজার টাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ও ১ লাখ টাকার আসবাব আছে। তবে স্থাবর সম্পদ হিসেবে কৃষি বা অকৃষিজমি, বাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদ নেই তাঁর। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বর্তমানে মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদের মালিক তিনি।
বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা উত্তর জেলার সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চারবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিবারই নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি দেবীদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আয়কর বিবরণীতে মঞ্জুরুল আহসান সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৭৮১ টাকার। বিপরীতে তিনি ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর দিয়েছেন। আয়কর বিবরণীতে স্ত্রী মাজেদা আহসানের নামে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ৪০৩ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন; তিনি আয়কর দিয়েছেন ৯১ হাজার ৫০০ টাকা।
মঞ্জুরুল আহসান কৃষি থেকে বছরে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০ টাকা আয় দেখিয়েছেন। স্ত্রী-সন্তানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রার্থীর শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র আছে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪১ টাকার। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে বছরে ভাতা পান ১২ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে প্রার্থীর নামে নগদ ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬০ টাকা এবং স্ত্রীর কাছে ২১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৩ টাকা আছে। এ ছাড়া ব্যাংকে স্থায়ী আমানত, বন্ড, যানবাহন, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক পণ্য, আসবাব, আগ্নেয়াস্ত্রসহ সব অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর নামে দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৪৫ একর কৃষিজমি আছে। স্ত্রীর নামে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট আছে ২ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ৬৯৫ টাকার। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মামলা হয়েছে ২৩টি। এসব মামলার মধ্যে ছয়টিতে ইতিমধ্যে খালাস পেয়েছেন। অন্য মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে এবং কয়েকটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, কুমিল্লা-৪ আসনে মোট আটজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ২ জানুয়ারি এ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।