
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নিহত জেলে সুব্রত মণ্ডলের পরিবারকে সরকারিভাবে তিন লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ কার্যালয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নিহত জেলের মা বামনী মণ্ডলের হাতে আর্থিক সহায়তার ওই চেক তুলে দেন।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার করে করমজল খাল সাঁতরে ফেরার পথে কুমির টেনে নিয়ে যায় জেলে সুব্রত মণ্ডলকে। পরে ওই খাল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার হয়। নিহত সুব্রতর বাড়ি ছিল খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী গ্রামে। তিনি বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে (পাস) বৈধভাবে কাঁকড়া আহরণ করতে বনে গিয়েছিলেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী, বৈধভাবে বনে প্রবেশ করে বাঘ/কুমিরের আক্রমণে মৃত্যু হলে জেলের পরিবারকে তিন লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। সুব্রত মণ্ডল সুন্দরবনে বৈধভাবে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়েছিলেন। আজ তাঁর পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তার তিন লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।
সুব্রত মণ্ডলকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের করমজল থেকে কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রায় ৭ ঘণ্টা পর স্থানীয় গ্রামবাসী ওই খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিহত জেলের পরিবারকে ওই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে বৈধ পাস পারমিট (অনুমতি) ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ করে দুর্ঘটনায় পড়লে ওই সহায়তা পাওয়া যাবে না।