বিদ্যুৎস্পৃষ্ট
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট

মেয়ের বিয়ের আগের রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মায়ের মৃত্যু

বাড়িজুড়ে ছিল মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি। অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন, আত্মীয়স্বজনের আনাগোনায় তখন উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দের আয়োজন বিষাদে পরিণত হয়। মেয়ের বিয়ের আগের রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মা রসেনা বেগম (৫০)। পরে স্থগিত করা হয় বিয়ের সব আয়োজন।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ভাণ্ডারু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রসেনা বেগম ওই এলাকার ইলিয়াস প্রামাণিকের স্ত্রী।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার রাতে রসেনা বেগমের ২২ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন ছিল। দিনভর আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করার কথা ছিল। এ উপলক্ষে বুধবার রাতেও বাড়িতে চলছিল শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। বাড়ি সাজানোর পাশাপাশি বরযাত্রী ও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য রাতে একটি গরুও জবাই করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে রসেনা বেগম গোয়ালঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ চালু করতে যান। এ সময় সুইচের পাশে ঝুলে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারে তাঁর হাত লাগে। তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনেরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রসেনা বেগমের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফুপুর মৃত্যুতে বিয়ের সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। পরিবারের একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর নতুন করে বিয়ের দিন ঠিক করা হবে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।