ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপের গ্যাস উৎপাদনকাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ দুপুরে তোলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপের গ্যাস উৎপাদনকাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ দুপুরে তোলা

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে আরও সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২৫ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

আজ শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় অবস্থিত এই কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। এর মধ্যে ২৭টি কূপ খননের প্রক্রিয়া চলমান। যার একটি তিতাস ২৮ নম্বর কূপ। এখানে আরও তিনটি কূপ খননের প্রক্রিয়া চলছে। এই তিন কূপ খননের কাজ শেষ হলে সেখান থেকে আমরা আরও ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এই ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে ২০৩০ সাল নাগাদ সরবরাহ এবং চাহিদার মধ্যে যে ফারাক, সেটি পূরণ করতে সক্ষম হব।’

বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির খরচ অনেক বেশি, যা অর্থনীতির জন্য টেকসই নয় মন্তব্য করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘এই সরকার দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। আমরা বাপেক্স, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের সক্ষমতা বাড়াবার চেষ্টা করছি। যাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি।’

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতাধীন তিতাসের ২৮ নম্বর কূপে খননকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতাধীন তিতাসের ২৮ নম্বর কূপে খননকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর। চলতি বছরের ২৭ মে খননকাজ শেষ হয়। এরপর ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। ইতিমধ্যে কূপটি থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

২৮ নম্বর কূপের প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিসিডিসি’র খনন করা ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতার এই কূপ থেকে প্রতিদিন আনুমানিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। মূসক ও আয়করসহ এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক, অতিরিক্ত সচিব রফিকুল আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল জলিল প্রামাণিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।