বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ। আজ বেলা একটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে
বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ। আজ বেলা একটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে

নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধের পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ১০ শ্রমিক আহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা সোয়া একটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বরপা এলাকায় বি ব্রাদার্স গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের ওপর চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল মারতে শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই পোশাক কারখানার মালিক আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়া। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক আছেন। এই শ্রমিকদের মধ্যে ৭০–৮০ জনের গত মাসের বেতন বকেয়া আছে। বকেয়া পরিশোধের পর তাঁদের ছাঁটাইয়ের কথা ছিল। এ নিয়ে শ্রমিকদের একটি অংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে আজ সকাল আটটা থেকে কারখানার ভেতর কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন।

এই বিক্ষোভ বন্ধে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করে পুলিশ। বৈঠক থেকে জানানো হয়, আগামী মঙ্গলবার সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকেরা মালিকপক্ষের প্রস্তাব না মেনে সকাল ১০টা থেকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

এর মধ্যে পুলিশ মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার এক পর্যায়ে বেলা সোয়া একটার দিকে শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকদের মধ্যে ১০ জন আহত হন।

পরে সেনাবাহিনী ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে এসে শিল্প পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানাটির তিনজন শ্রমিক বলেন, তাঁরা মহাসড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। বেলা সোয়া একটার দিকে পুলিশ তাঁদের লাঠিপেটা শুরু করলে তাঁরা ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশ-প্রশাসনের লোকজন প্রথমে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেয় এবং পরে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। শ্রমিকেরা বিক্ষোভ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।