আসামিদের আদালত কাস্টডিতে নেওয়ার পথে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় জনতা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে
আসামিদের আদালত কাস্টডিতে নেওয়ার পথে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় জনতা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে

শরীয়তপুরে শিশুশিক্ষার্থী হত্যায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

শরীয়তপুরে এক শিশুশিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও সিয়াম হোসেন (২০)। এ ছাড়া এই মামলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের ১ আগস্ট শরীয়তপুর জেলা শহরের উপকণ্ঠে একটি ইটভাটা থেকে হৃদয় খান ওরফে নিবিড় (১১) নামের ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে তখন শহরের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার মনির খানের ছেলে হৃদয় খান ওরফে নিবিড় ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই নিখোঁজ হয়। তাকে খুঁজে না পেয়ে সেদিন রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওই রাতেই দুর্বৃত্তরা অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে হৃদয়ের মা নিপা আক্তারের মুঠোফোনে ফোন করে। এরপর শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ ওই রাতেই শাকিল হোসেন গাজী, সিয়াম হোসেন ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে। তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হৃদয়ের বাড়ির পাশের একটি ইটভাটা থেকে তার মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আসামিরা আদালতে স্বীকার করেন হৃদয়কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পরই তাঁরা মুক্তিপণের জন্য ফোন করেছিলেন।

মামলাটি প্রথমে পালং মডেল থানার একজন কর্মকর্তা তদন্ত করেন। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর আসামিদের আদালতের কাস্টডিতে নেওয়ার পথে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় স্থানীয় জনতা। এ সময় পুলিশ দ্রুত তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন হৃদয়ের মা নিপা আক্তার। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আড়াই বছর ধরে ছেলের জন্য হাহাকার করছি। একটি রাতও ঘুমাতে পারছি না। রায়ে একজনকে শিশু দাবি করা হয়েছে, সে শিশু নয়। সে–ই পরিকল্পনাকারী। তার বিষয়ে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদ কোতোয়াল বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলাটিতে একজনের বিচার হয়েছে শিশু আদালতে। তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। আর দুজনের বিচার হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে। তাঁদের দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আবেদন করেছিল। আদালত এমন রায় দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।’