লাশ
লাশ

কয়রায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

খুলনার কয়রা উপজেলায় সিঁধ কেটে ভেতরে ঢুকে ভবতোষ মৃধা (৪০) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী বিভা মৃধা।

গতকাল রোববার রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মহেশ্বরীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ভবতোষ মৃধা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত যশো মৃধার ছেলে। তিনি স্থানীয় গিলাবাড়ি বাজারে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন।

আজ সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবতোষ মৃধার বাড়ির উঠানে স্থানীয় লোকজনের ভিড়। ঘরের দরজায় তালা দেওয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলামত সংরক্ষণের জন্য ভোররাতে পুলিশ এসে ঘরে তালা লাগিয়ে গেছে। বারান্দা ও সিঁড়িতে তখনো রক্তের দাগ ছিল। ঘরের পেছনের দিকে গিয়ে দেখা যায়, মাটি কেটে বড় একটি গর্ত করা হয়েছে। আশপাশে ছড়িয়ে রয়েছে মাটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ওই গর্ত দিয়েই দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে।

প্রতিবেশী সীমা মণ্ডল বলেন, গর্তের মুখে ঘরের ভেতরের ফ্রিজের পায়া এসে পড়েছে। ফ্রিজের পাশ দিয়ে তারা ঢুকেছে। এই ঘরেই ভবতোষ, তাঁর স্ত্রী ও ছোট ছেলে ঘুমাতেন। পাশের ঘরে থাকতেন ভবতোষের মা ও মেয়ে।

বসতঘরের পাশের রান্নাঘরের সামনে বসে বিলাপ করছিলেন ভবতোষের মা আশুলতা মৃধা। তিনি বলেন, ‘আমি পাশের ঘরে নাতনিকে নিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বৌমার কান্না শুনে গিয়ে দেখি, আমার খোকা রক্তে ভেসে পড়ে আছে। মাটি কেটে ঘরে ঢুকে আমার ছেলেকে মেরে গেল, অথচ কিছুই টের পাইনি।’

প্রতিবেশী পরিমল মণ্ডল বলেন, ‘রাত আড়াইটা-তিনটার দিকে ভবতোষের স্ত্রী ও মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে যাই। পরে ঘরে ঢুকে দেখি, রক্তে ভেসে যাচ্ছে। ভবতোষ উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। শরীর তখনো গরম ছিল। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। ভবতোষের স্ত্রীর পায়েও কোপ লেগেছে।’

নিহত ভবতোষের স্ত্রী আহত বিভা মৃধা জানিয়েছেন, রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি গফুর নামের একজনকে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন। জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতার কথা বলেছেন তিনি।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে ভবতোষ মৃধাকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। গলায় বড় ধরনের কোপ এবং বুকের মাঝখানে গভীর আঘাত পাওয়া গেছে।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ঘরের ভিটা কেটে ভেতরে ঢুকে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রীও আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে এটি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। ঘর থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস খোয়া যায়নি। পূর্বশত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।