রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে

দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে উপাচার্য জাওয়াদুল হককে অপসারণের দাবিতে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’–এর ব্যানারে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়। তাঁকে অপসারণের জন্য তিন দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে সম্প্রতি ৬টি প্যাকেজে ৭৭৭ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও উপাচার্য জাওয়াদুল হক। এসব কাজ দিতে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে

জেনিট কর্পোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমানের দাবি, দরপত্রের মাধ্যমেই উপাচার্য তাঁকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, বিনিময়ে চেয়েছিলেন ৯ শতাংশ কমিশন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।

মানববন্ধনে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে ভিসি জাওয়াদুল হককে অপসারণ করতে হবে। তা না হলে ভিসির দপ্তর ঘেরাও করা হবে।

সাইদুর রহমান বলেন, উপাচার্যের আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা। তিনি দায়িত্ব নিয়েই ক্যাম্পাসের কয়েক হাজার গাছের আম লুট করলেন। দরপত্র ছাড়াই কয়েক হাজার গাছ কাটলেন। পরে কোটি টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে একটা সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিলেন। এখন আবার ৭৭৭ কোটি টাকার কাজ দিতে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ পার্সেন্ট কমিশন চেয়েছেন।

ক্যাবের রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, এই ভিসি আওয়ামী লীগের আমলে কলেজ পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদে ছিলেন। তখনই দুর্নীতি করে টাকা কামিয়েছেন। সেই টাকায় ভিসি হয়েছেন। এখন টাকা তুলতে ঠিকাদারদের কাছে কমিশন খাচ্ছেন।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, সামাজিক সংগঠক সালাহউদ্দিন মিন্টু, ব্যবসায়ী নেতা শফিকুর রহমান প্রমুখ। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর একই দিন আজ সকালে নিজের দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেন ভিসি জাওয়াদুল হক। সেখানে তিনি বলেন, যে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তারা এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কাজ করেনি। তাই তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ হাস্যকর। নিয়ম মেনেই সবকিছু করছেন তিনি।