
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর ঢাকার দোহারে নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ। কিন্তু এত বছরেও মুক্তিযুদ্ধের শোক ভুলতে পারেনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াত ও তার দোসররা। তাই চক্রটি বারবার দেশকে পেছনে ফেলতে কথায় কথায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজে।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকার দোহার উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে ঢাকা-১ (দোহার–নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এ কথা বলেন। দোহার পৌরসভার উদ্যোগে স্মৃতিসৌধটির নির্মাণকাজের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঈদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটির নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে।
আবু আশফাক বলেন, একটি গোষ্ঠী এখনো মায়াকান্না করছে। তারা পাকিস্তানপ্রেমী হয়ে দেশকে পরাধীন করতে মরিয়া। যারা মানুষ হত্যা করেছে, মা–বোনের ইজ্জত লুট করেছে, তারা এখনো থেমে নেই। উগ্রপন্থী হিসেবে পরিচিত এ গোষ্ঠী দেশের উন্নয়ন–সমৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে প্রতিনিয়ত। তারা এখনো ’৭১–এর মতো তাদের সেই পুরোনো পৈশাচিক ধারায় বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দিচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক–বাহক জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
নবাবগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় মাদকসন্ত্রাস ও বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সংসদ সদস্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁদের জীবন, শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা, তাঁদের স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে সবাই মিলে কাজ করুন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করুন আর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে বর্জন করুন। তরুণ ও শিক্ষিত প্রজন্মকে এ স্লোগানে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণেরা যাতে কোনো বিভ্রান্তিতে না ভোগে, সে বিষয়ে তাদেরকে জানাতে হবে।’
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দোহার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, পৌরসভার প্রকৌশলী এম এম মামুনুর রশিদ, দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ঢাকা জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল হাসেম ব্যাপারী প্রমুখ।