যশোরের মনিরামপুরে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষিকাকে মারধরে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানকে সংগঠন থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মনিরামপুর পৌর যুবলীগের সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মিজানুর রহমান মনিরামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড (দূর্গাপুর) যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের ছেলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে কথা না শোনায় তাকে ধমক দিয়েছিলেন ওই শিক্ষিকা। বিষয়টি তিনি বাড়িতে গিয়ে জানান। এরপর যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিক বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষিকাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁকে এলোপাতাড়ি চড়, কিল–ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এরপর তাঁকে টেনেহিঁচড়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে কিল–ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। পরে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকেরা এসে মিজানুরকে থামান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ওই দিন মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে।
এ ঘটনায় গত রোববার মিজানুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় পৌর যুবলীগ। সেখানে বলা হয়, ২২ আগস্ট দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও সম্মানহানির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা যুবলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নেতা করতে পারেন না। এসব কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলার লঙ্ঘন ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
নোটিশের জবাব না পাওয়ায় মিজানুর রহমানকে মনিরামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও সম্মানহানির অভিযোগ ওঠে। এসব কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলার লঙ্ঘন ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।