
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবানে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় ও সম্পদ রয়েছে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবুল কালামের। সম্পদশালীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন এনসিপি প্রার্থী। তাঁরা দুজনই প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাচিংপ্রু জেরী ২০১৮ সালেও প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর আয় ওই সময়ের তুলনায় দেড় গুণ ও সম্পদ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবুল কালাম পেশায় আইনজীবী। আইন পেশা, কৃষি, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খাতে তাঁর আয় ২৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তাঁর ২৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকার অস্থাবর ও ৪২ লাখ ১৫ হাজার টাকার স্থাবর মিলিয়ে মোট ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। আবুল কালামের স্ত্রী পেশায় গৃহিণী। তাঁর স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে ৮৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ সুজাউদ্দিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (সম্মান)। পেশায় তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। সাংবাদিকতা থেকে তাঁর আয় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। তিনি ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পেশায় ব্যবসায়ী জেরীর ২০১৮ সালে বার্ষিক আয় ছিল সাড়ে তিন লাখ টাকা, তবে এই অর্থবছর তা বেড়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হয়েছে। ২০১৮ সালের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ হিসাবে নগদ টাকা ২ লাখ টাকা ছিল, যা এখন ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা হয়েছে। একইভাবে অর্জনকালীন স্থাবর সম্পদ সাড়ে তিন লাখ টাকার ছিল, যার মূল্যমান এখন সাড়ে ১৮ লাখ টাকা। সাচিংপ্রু জেরীর স্ত্রী মমচিং পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ বর্তমান মূল্য হিসাবে ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর অর্জনকালীন মূল্য ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৫ লাখ টাকার একটি প্রাডো গাড়ি, সাড়ে চার লাখ টাকার একটি ট্রাক, সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার একটি ভলবো গাড়ি, এক ভরি সোনা। জেরী বোমাং রাজপরিবারের সদস্য। তাঁর সম্পদের অধিকাংশই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বলে রাজপরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ সুজাউদ্দিনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (সম্মান)। পেশায় তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। সাংবাদিকতা থেকে তাঁর আয় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এনসিপি প্রার্থীর নগদ ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা, ব্যাংকে আমানত ৮৫ হাজার ১৯৯ টাকা, ৩৩ লাখ টাকার একটি মাইক্রোবাসসহ মোট ৮১ লাখ ৩১ হাজার ৪৪১ টাকার সম্পদ রয়েছে। ব্যাংকঋণ রয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদের পেশা ব্যবসা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দাওরায়ে হাদিস। ব্যবসা থেকে তাঁর আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৪৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা। তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর কোনো আয় ও সম্পদ নেই।
হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মো. ওয়ালী উল্লাহ। ব্যবসা থেকে তাঁর আয় ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৮ টাকা। এ ছাড়া অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মূল্যমান ১৫ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গৃহিণী স্ত্রীর নামেও কোনো আয় ও সম্পদ নেই।