বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা হয়। সেখানে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা হয়। সেখানে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর

বকশীগঞ্জে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন যুবলীগ নেতা—বিএনপি নেতার বক্তব্য ভাইরাল

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে যুবলীগ নেতা ভূমিকা রেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও আজ বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা–সমালোচনা।

ওই নেতা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের বকশীগঞ্জ পৌর কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম। উপজেলা বিএনপির সভাপতির দাবি, বর্তমানে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তাঁকে তিনটি হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর বক্তব্য দেন।

বিএনপি নেতা মানিক সওদাগর যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের বড় ভাই।

ভিডিওতে মানিক সওদাগরকে বলতে শোনা যায়, ‘বকশীগঞ্জের এই বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছে কে? এই ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে এই সাতটি ইউনিয়নের বিএনপিকে বুকে নিয়ে কে ধারণ করেছে, আপনারা জানেন? সেই বকশীগঞ্জের মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর। এই মিল্লাত ভাইয়ের (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত) পরামর্শে সে আওয়ামী লীগে গিয়েছে। আজকে কার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে? যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা কে আপনারা জানেন? তারা কে? কোত্থেকে এসেছে? কার দল? কে তৈরি করেছে? আপনারা জেনে যান। আমরা যারা বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং প্রত্যেকটা ইউনিয়নে বিএনপি আছি, একটা লোক যদি বলতে পারে যে এই নজরুল ইসলাম সওদাগররে দিয়ে আমার একটা ক্ষতি হয়েছে, চ্যালেঞ্জ! আর তাঁকে ষড়যন্ত্র করে তিনটে মার্ডার মামলায় ফেলানো হয়েছে। কে করেছে, সেটাও আমরা জানি। সেটাও ভিডিও ফুটেজ আছে।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় নজরুল ইসলাম উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে তিনি যুবলীগে যোগ দেন। ২০১৬ সালে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন। পরে ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদেও নির্বাচিত হন। এর পর থেকে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণ–অভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় পুলিশ একটি ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিনটি মামলা করেছেন। বেশির ভাগ মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হলেও নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়নি। বেশির ভাগ নেতা-কর্মী পলাতক থাকলেও নজরুল এলাকাতেই থাকতেন।

২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম উপস্থিত হন। বিষয়টি নজরে এলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এরপর ১২ আগস্ট রাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একাধিক মামলায় সাত মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি এলাকাতেই থাকেন।

এই বিষয়ে মানিক সওদাগর প্রথম আলোকে বলেন, ‘নজরুল আমাদের দলের। তখন মিল্লাত ভাইয়ের পরামর্শে আওয়ামী লীগে গিয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালে পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল। তখন যুবলীগ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ফলে নজরুল আর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কোনো পদে নেই।’

নজরুল ইসলাম কি তাহলে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন?—এমন প্রশ্নের জবাবে মানিক সওদাগর বলেন, ‘যোগ এখনো দেয়নি। তবে দিতেও পারে।’