নিহত শিশু হুজাইফা
নিহত শিশু হুজাইফা

মিয়ানমার থেকে গুলি, ২৭ দিন পর মারা গেল শিশু হুজাইফা

কক্সবাজারে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা সুলতানার (৯) মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২৭ দিন পর আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল ও  শিশুর চাচা শওকত আলী প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে আসা গুলিতে আহত হয়েছিল শিশু হুজাইফা। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।

জানতে চাইলে আজ দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিহত শিশুর চাচা শওকত আলী এখন কক্সবাজারে। বিমানে তিনি ঢাকায় পৌঁছে হুজাইফার মরদেহ গ্রহণ করবেন। এরপর তিনি কক্সবাজারে ফিরে আসবেন। শিশুটির মৃত্যুর খবরে এলাকার সবাই বাক্‌রুদ্ধ।’

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) ও নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। অন্যদিকে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীও আরাকান আর্মির অবস্থানে বিমান হামলা ও বোমা হামলা চালায়। ওই দিন সকালে রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় শিশু হুজাইফা।

এ ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ তখন জানান, গুলিটি শিশুটির মস্তিষ্কে প্রবেশ করায় তার অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করলেও ঝুঁকির কারণে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য বিভিন্ন চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।