ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান। আজ বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে
ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান। আজ বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে

ফরিদপুরে তারেক রহমান

জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে, তারা রূপ পরিবর্তন করে

জনগণের স্বাধীনতা, জনগণের ভোটের অধিকার, জনগণের কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্র যারা করছে, তাদের জনগণ একটি নামে ডেকে থাকে। জনগণের পক্ষ থেকে তাদের একটি নাম দেওয়া হয়েছে—গুপ্ত। জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে। যখনই সময় এদিকে হয়, তখন তাদের এক রূপ, যখন সময় হয় ওদিক, তখন তাদের আরেক রূপ। বিভিন্ন পরিস্থিতি তারা রূপ পরিবর্তন করে।’

আজ বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বেলা দুইটা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে তারেক রহমান ফরিদপুর স্টেডিয়ামের মাঠে নামেন। এরপর গাড়িতে করে ২টা ৫৫ মিনিটে তিনি জনসভার মঞ্চে ওঠেন। বেলা ৩টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। প্রায় ২৫ মিনিট তিনি বক্তব্য দেন।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, ‘এদের কাছ থেকে আমরা ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারি না। ১৯৭১ সালে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের লাখ লাখ মা–বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। এদের কাছ থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। এরা বলবে একটা, করবে আরেকটা। নিজের দেশের মা–বোনদের সম্পর্কে যাদের মিনিমান সম্মান বোধ নেই, তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই।’

গুপ্ত কার্যক্রমের সমালোচনা করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন পত্র–পত্রিকায় বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন খবর দেখছি—এই গুপ্তদের বিভিন্ন লোকজন বিশেষ করে মা–বোনদের কাছে গিয়ে বিকাশ নম্বর ও এনআইডি নম্বর চাইছে। তারা কেন দেশের মানুষের সাথে অনৈতিক আচরণ করছে? অথচ তারা নাকি সৎ লোকের শাসন দেবে। কাজটা শুরু করেছে অনৈতিক বিষয় দিয়ে, সেখানে জনগণ কীভাবে আশা করবে আপনারা সৎ লোকের শাসন দেবেন।’

ফরিদপুর বিভাগ গঠনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচনী জনসভায় আপনাদের সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই, ফরিদপুর বিভাগ গঠন করলে যদি সমস্যা সমাধান হয়, তাহলে বিএনপি এটা সমাধান করবে। আমরা শুনেছি, প্রত্যেক এলাকা এত উন্নয়ন হয়েছে, তাহলে আপনাদের প্রার্থীরা এত সমস্যার কথা বলল কেন? সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। দেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলেই কেবল দেশনে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপিকে ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) দেশের মানুষ ভোট দিলে কী কী করবে, তা আমরা পরিকল্পনা করেছি। এই এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা নদীভাঙন। কৃষিপ্রধান এই এলাকায় আমরা নদীভাঙন রোধ করতে পারলে এই গ্রেটার ফরিদপুরের অন্যতম সেরা ফসল পাটকে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাব। কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই আমরা কৃষক কার্ড দেব। ফসল ফলাতে বীজ সার পৌঁছে দিতে চাই।’

এই এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক এলাকায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কলকারখানা করব, যাতে তাঁরা সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে পারেন। নারীদের পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। এ জন্য নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এর মাধ্যমে নারীরা খেটে খাওয়া পরিবারগুলো কিছু সহায়তা পাবে।’ এ ছাড়া তিনি পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, হাসপাতাল মেরামতের পাশাপাশি সারা দেশে হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানান।

জনসভায় তারেক রহমান ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের ১৫টি আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী। সঞ্চালনা করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া।

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মিয়া মো. নুরুদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।