
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইয়েদ আহম্মদকে জোটের প্রার্থী হিসেবে বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেনবাগ রাস্তার মাথা নামের স্থানে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
নির্বাচনী সমঝোতা অনুসারে নোয়াখালী ২ আসন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীকে ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। এই আসনে এনসিপির প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইয়েদ আহম্মদও এই আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সাইয়েদ আহম্মদ যথা সময় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নোয়াখালী-২ আসনের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে কর্মসূচিতে উপজেলা জামায়াত কিংবা তাদের সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাকে দেখা যায়নি। মানববন্ধনে ‘জনসমর্থনহীন প্রার্থী প্রত্যাহার চাই, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে নোয়াখালী-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিকল্প নাই’ লেখাসংবলিত ব্যানার ব্যবহার করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জামায়াতে ইসলামী জোট থেকে ঘোষিত এনসিপির প্রার্থী সুলতান জাকারিয়ার সঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষের কোনো পরিচয় বা সম্পৃক্ততা নেই। তাঁকে এলাকার কেউ চেনেন না বা তিনি আগে কখনো কোনো জনসংযোগও করেননি। ফলে তাঁকে তাঁরা প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না।
বক্তব্যে তাঁরা বলেন, ‘জনসমর্থনহীন প্রার্থী চাপিয়ে দিলে আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব না। নোয়াখালী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাইয়েদ আহম্মদ দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁকেই আমরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই। তাঁরা আরও বলেন, যদি জামায়াতের জোট থেকে সাইয়েদ আহম্মদকে মনোনয়ন বহাল না রাখা হয়, তাহলে সাধারণ ভোটাররা নির্বাচন বর্জন করবেন।’
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মানুষজন ভোগান্তির শিকার হন। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নোয়াখালী-২ আসন জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির সুলতান জাকারিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কিছু সাধারণ কর্মী সমর্থক না বুঝে সেনবাগে একটি কর্মসূচি পালন করেছেন। এটি তাঁরা অন্যায় করেছেন। আমরা বিষয়টি জানার পর তাঁদের ডেকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছি, তা ছাড়া দলের প্রার্থী সাইয়েদ আহমদকেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে বলা হয়েছে।’