
সড়কে যানজটে পড়ে থেমে আছে ট্রাক-বাস। দেশজুড়ে এমন চিত্র খুবই স্বাভাবিক। তবে যানজটে পড়ে ট্রেন আটকে থাকার চিত্র দেখা যায় না সচরাচর। গতকাল মঙ্গলবার এমনই ঘটনা দেখা গেল চট্টগ্রাম নগরের সল্টগোলা রেলক্রসিং এলাকায়।
হঠাৎ যানজটে ট্রেন আটকে থাকার এই দৃশ্য দেখে এর ভিডিও ধারণ করেন পথচারীদের অনেকেই। গতকাল সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। এ নিয়ে মজার মজার ক্যাপশন দেন নেটিজেনরা। ‘ট্রাকের যানজটে আটকে গেল ট্রেন’; ‘এবার জ্যামে আটকে পড়ল ট্রেন, আমাদের সোনার বাংলাদেশে সবই সম্ভব’; ‘যানজটে আটকে আছে দ্রুতগামী ট্রেন, একমাত্র বাংলাদেশেই এমনটা সম্ভব’—এমন নানা ক্যাপশন লিখতে দেখা যায় তাঁদের।
রেলকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কে ট্রেন আটকের যাওয়ার এ ঘটনা ঘটে গতকাল দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনারে করে পণ্য নিয়ে ট্রেনটি হালিশহরের চিটাগং গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) স্টেশনে যাচ্ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্যবাহী ট্রেনটি থেমে যায় কাভার্ড ভ্যান, লরির চলাচলের চাপে সল্টগোলা রেলক্রসিংয়ে আটকে পড়ে।
২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে যাচ্ছিল এই ট্রেন। ট্রেনের ইঞ্জিন সড়কের ওপর চলে আসে। ট্রেন আসা সত্ত্বেও গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়নি। এর মধ্যেই রেলক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে চলাচল করতে থাকে কাভার্ড ভ্যান ও লরিজাতীয় যানবাহন। এ সময় সড়কের দুই পাশেও গাড়ির জট তৈরি হয়। ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে কয়েক দফা হুইসেল দেওয়া হলেও গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়নি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের গোসাইলডাঙা ইয়ার্ডের মাস্টার মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, সল্টগোলা ক্রসিংয়ে ট্রেন আটকে যাওয়ার ভিডিও তাঁদের নজরে এসেছে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে সিজিপিওয়াই স্টেশনে যাচ্ছিল। তবে সময় নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। সম্ভবত বিকেলের দিকে হবে। কেননা তখন ওই সড়কে যানজট থাকে।
যানজটে ট্রেন আটকে পড়ার জন্য গাড়িচালকদের দায়ী করেন মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, সল্টগোলা ক্রসিং সেকশনে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি আট কিলোমিটার। তবে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় গতি আরও কম থাকে। ওখানে গাড়িচালকদের ন্যূনতম ধৈর্য নেই। কার আগে কে পার হবেন, কত তাড়াতাড়ি যাবেন—এই প্রতিযোগিতা কাজ করে গাড়িচালকদের মধ্যে। এ কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ওখানে গাড়িচালকদের ন্যূনতম ধৈর্য নেই। কার আগে কে পার হবেন, কত তাড়াতাড়ি যাবেন, এই প্রতিযোগিতা কাজ করে গাড়িচালকদের মধ্যে। এ কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।মাহমুদুল হাসান, মাস্টার, গোসাইলডাঙা ইয়ার্ড (চট্টগ্রাম)
মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, সল্টগোলা ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩-১৪টি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনের কিছু বন্দরে কনটেইনারে করে পণ্য আনা-নেওয়া করে। আবার কিছু ট্রেন পতেঙ্গায় তেলের ডিপো থেকে তেল পরিবহন করে। তবে এসব ট্রেন চলাচল করলেও সল্টগোলা ক্রসিংয়ে কোনো ব্যারিয়ার বা গেট নেই। কেন গেট নেই, এটা তাঁর জানা নেই। তবে ওখানে সড়ক অনেক বেশি প্রশস্ত হওয়ার কারণে এবং ট্রেনের গতি কম থাকার কারণে হয়তো ব্যারিয়ার বা গেট দেওয়া হয়নি।