‘কান্না ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। নৌবাহিনী যা করছে, অনেক করছে। কিন্তু বাচ্চাদের মানুষ করব কীভাবে জানি না।’ বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলেন শ্রেয়া চাকমা।
আফ্রিকার দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার (৩৯) দাহকার্য অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন তাঁর স্ত্রী শ্রেয়া চাকমা। গত সোমবার দুপুরে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের রামহরি পাড়ায় সামরিক মর্যাদায় ও বৌদ্ধধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রয়াত এই নৌসদস্যের দাহকার্য সম্পন্ন হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা একটার দিকে লাশবাহী ফ্রিজারভ্যানে করে নৌবাহিনীর সদস্যরা ট্রোম্যানের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে মরদেহ রাখা হয় স্থানীয় মহাপুরুম উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে। এ সময় মরদেহের পাশে মা, বাবা, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন। বীর এই সেনাকে শেষবিদায় জানাতে আসেন প্রতিবেশী ও গ্রামের বাসিন্দারা।
গত বছরের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় দক্ষিণ সুদানে যান ট্রোম্যান। আগামী ডিসেম্বরেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু গত ২০ সেপ্টেম্বর মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে সেখানকার একটি ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই সাহসী নৌসদস্য। গত রোববার সকালে তাঁর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায় এবং সেখান থেকে রাঙামাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
পারিবারিক ও নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নানিয়ারচরের রামহরি পাড়া গ্রামের সুবিমল খীসা ও গঙ্গা দেবী চাকমা দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে ট্রোম্যান ছিলেন ছোট। ১৯৮৭ সালের ১৩ জুন জন্মগ্রহণ করা ট্রোম্যান ২০০৬ সালের ১ জুলাই নৌবাহিনীতে নাবিক হিসেবে যোগ দেন। দুই কন্যাসন্তানের জনক ট্রোম্যানের স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামের নৌবাহিনী কলোনিতে থাকতেন। আর গ্রামে থাকতেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা।
গত বছরের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় দক্ষিণ সুদানে যান ট্রোম্যান। আগামী ডিসেম্বরেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু গত ২০ সেপ্টেম্বর মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে সেখানকার একটি ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই সাহসী নৌসদস্য। গত রোববার সকালে তাঁর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায় এবং সেখান থেকে রাঙামাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ট্রোম্যানের চাচি জয়ন্তী চাকমা আক্ষেপ করে বলেন, ‘অর্থ দিয়ে তো মানুষের ক্ষতি পূরণ হবে না। আমাদের মানুষটা বেঁচে থাকলে অনন্ত দেখতে পেতাম। এই ক্ষতি আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।’
ট্রোম্যানের অকালমৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা বলেন, ‘সুদানে মিশনে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর খবরে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ছেলেটি খুব ভালো ছিল।’
বুড়িঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ট্রোম্যানকে দেখে আসছি। দেশ ও বিশ্বশান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে তাঁর অকালমৃত্যু হয়েছে। তাঁর জন্য আমরা গর্বিত।’
নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নানিয়ারচরে নিজ গ্রামে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ট্রোম্যান খীসার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানানো হয়। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, সামরিক-বেসামরিক সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সহকর্মী ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ট্রোম্যানের স্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও জাতিসংঘের পতাকা, ক্যাপ এবং মেডেল তুলে দেওয়া হয়।