ফেনীর দাগনভূঞায় রাতের আঁধারে একটি মন্দিরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুন দেওয়ার আগে মন্দিরের ফটকের তালা ভেঙে ভেতর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।
গতকাল রোববার রাতে উপজেলার তুলাতলি বাজার–সংলগ্ন ব্র্যাক অফিসের পাশে মনোরঞ্জন ডাক্তারের বাড়ির পারিবারিক মন্দিরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মন্দিরে একটি প্রতিমা ছিল। আগুনে মন্দিরের প্রায় সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
মন্দির ও বাড়ির মালিক নারায়ণ চন্দ্র নাথ ও শ্যামল চন্দ্র নাথ বলেন, দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুন ও লুটপাটে মন্দিরের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন তাঁরা।
আজ সোমবার সকালে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল ইসলাম ও পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পুলিশের একটি দল প্রহরায় আছে। এ ছাড়া দুপুরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থল গিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল ইসলাম বলেন, মন্দিরে আগুন দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে।
পুলিশ ও মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্বৃত্তরা রোববার রাত দুইটার পর মন্দিরের লোহার ফটকের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। মন্দিরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে এবং এরপর আগুন ধরিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাগনভূঞা উপজেলা শাখার সভাপতি রসিক শেখর ভৌমিক বলেন, মন্দিরে আগুন দেওয়া ও লুটপাটের বিষয়টি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টুকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সোমবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছে।