
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৩৬ নেতা-কর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে দলটির ৩৯ নেতা-কর্মী জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক আবু সালেহ মোহাম্মদ রুহুল ইমরান অসুস্থতার কারণে তিনজনকে জামিন দিয়ে বাকি আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. গোলাম জিলানী বলেন, জামিন নামঞ্জুরের পর বিএনপির ৩৬ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিএনপির আইনজীবীরা জানান, আজ সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু বকর ছিদ্দিকসহ ৩৯ জন নেতা-কর্মী ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আবু সালেহ মোহাম্মদ রুহুল ইমরান অসুস্থতার কারণে পৌর যুবদলের সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান, বিএনপির নেতা সেলিম রেজা ও মোতাহের হোসেনকে জামিন দেন। বাকি ৩৬ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আবু তাহের, মেজবাহ উদ্দিন খান, নুরুল ইসলাম, ইউসুফ আলমগীর, পার্থপাল চৌধুরী প্রমুখ।
একই মামলায় উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষে গত ১০ অক্টোবর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল (মিন্টু) জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হাসান ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিএনপির ৪৪ নেতা-কর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছিলেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলা-হামলায় জড়িয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম দমানো যাবে না। সারা দেশে সরকার পতনের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। এ জালিম সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘরে ফিরবেন না।
গত ২৯ আগস্ট সোনাগাজীতে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০ জন আহত হন। পরের দিন সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরজিত বড়ুয়া ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বাদী হয়ে আবদুল আউয়ালসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের তিন শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন। দুই মামলায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়।