
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি মার্কেটের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার বালাসুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. আলমগীর (৪৫)। তিনি বালাসুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ বেলা ১১টার দিকে স্বজন ও বিক্ষুব্ধ জনতা শ্রীনগর-দোহার সড়ক অবরোধ করেন। সেখানে তাঁরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।
ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন আলমগীরের ভাই তমিজ উদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), মো. তারেক (৩৫), তানসেল (২২), তুষার (২৪), আবদুর রহমানসহ (২৩) আরও কয়েকজন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আটজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলমগীর ও তাঁর ভাই তমিজ উদ্দিন যৌথভাবে বালাসুর বাজারে একটি মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ওই জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় হান্নান হাজী, মানিক ও তাপস নামের কয়েকজন আদালতে মামলা করেন। তবে সম্প্রতি মামলার রায়ে আলমগীরদের পক্ষে আসে। তবে প্রতিপক্ষ ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
আলমগীরের পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে। আজ ভোরে আবার দেশীয় অস্ত্রসহ লোকজন নিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেট দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় আলমগীর, তাঁর ভাইসহ স্বজনেরা বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন আলমগীরকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের গেটেও প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে মারধর করেন।
আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৩ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় বলে জানান শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ক্যামেলিয়া সরকার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আলমগীরসহ আটজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে আলমগীর মারা যান। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক।