
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একজন উপসহকারী প্রকৌশলীর প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিও নিয়ে চলছে আলোচনা–সমালোচনা।
অভিযুক্ত প্রকৌশলীর নাম মো. ইমরান হোসেন। তিনি গত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সদর উপজেলায় কর্মরত।
ভিডিওতে দেখা যায়, কার্যালয়ের টেবিলে বসে এক ঠিকাদারের সঙ্গে ঘুষের টাকার অঙ্ক নিয়ে দর-কষাকষি করছেন ইমরান হোসেন। একপর্যায়ে ঠিকাদার তাঁকে ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডিল দেন। তবে টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে টাকার বান্ডিলটি একাধিকবার ঠিকাদারের দিকে ছুড়ে মারেন। পরে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হলে তিনি তা নিয়ে তাঁর প্যান্টের পকেটে রাখেন।
ভিডিও বিশ্লেষণ করে ও কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার উত্তর বিশিউড়া এলাকার একটি রাস্তার কাজের বিলসংক্রান্ত বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামুন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মামুন ওই টাকা দিচ্ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেনকে। তবে কত তারিখে এই টাকা দেওয়া হয়, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।
ঘুষ লেনদেনের ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও সদর উপজেলার গজীনপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহাগ মিয়া অভিযোগ করেন। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে একজন কর্মকর্তা তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। তবে মো. ইমরান হোসেন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সদর উপজেলায় কর্মরত। সর্বশেষ গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে তাঁকে নেত্রকোনা জেলা পরিষদে বদলি করা হলেও তিনি সেখানে যোগদান না করে এখনো সদর উপজেলা এলজিইডির কার্যালয়েই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে ইমরান হোসেনকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। একইভাবে ভিডিওতে থাকা ঠিকাদার মামুনের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরানের কক্ষের দরজাও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তবে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিওটির বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি কবেকার, তা সঠিক করে বলতে পারছি না। তবে এটি দুই মাস আগের হবে মনে হয়।’
নেত্রকোনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।