সড়কে নিহত রহিম প্যাদার স্বজনদের আহাজারি। বুধবার দুপুরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে
সড়কে নিহত রহিম প্যাদার স্বজনদের আহাজারি। বুধবার দুপুরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে

পটুয়াখালীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় চা–দোকানিকে পিটিয়ে হত্যা

পটুয়াখালীতে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক ক্রেতা ও তাঁর অনুসারী লোকজনের মারধরের শিকার হয়ে মো. রহিম প্যাদা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ চা–দোকানিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতের এ ঘটনায় আজ বুধবার বিকেলের দিকে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির মেয়ে।

নিহত রহিম প্যাদা সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। তিনি সেখানে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জানা যায়, স্থানীয় কামাল হাওলাদার রহিম প্যাদার দোকান থেকে বিভিন্ন সময় চা–সিগারেট নিলেও টাকা দিতেন না। গতকাল রাত আটটার দিকে কামাল আগের মতোই বাকিতে সিগারেট চান। এ সময় রহিম প্যাদা অস্বীকৃতি জানিয়ে পাওনা টাকা চান। এতে কামাল ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে দোকান থেকে টেনে বাইরে বেড় করে এলোপাতাড়ি চড়–থাপ্পড় দেন। এ সময় রহিমকে বাঁচাতে তাঁর স্ত্রী সেতারা বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নিহত রহিম প্যাদার নাতি সজীব হাওলাদার (২১) ও নাতনি নিশি আক্তার (১৯)। তাঁরা জানান, ঘটনার সময় আশ্রয়ণে বসবাস করা তাঁদের অন্য স্বজনেরা এগিয়ে এসে হামলাকারী কামাল হাওলাদারের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে তাঁদেরও মারধর করেন কামাল। খবর পেয়ে তাঁর বড় ভাই জামাল হাওলাদার এসে ভাইয়ের সঙ্গে মারধরে অংশ নেন। এ সময় দুই ভাইয়ের সঙ্গে মারধরে অংশ নেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কথিত সভাপতি শাহাবুদ্দিন এবং স্থানীয় নুরুল ইসলাম ও খোকন হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন। এ সময় হামলাকারীরা রহিম প্যাদাকে মাটিতে ফেলে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন, নাক–মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। রাত ৯টার দিকে তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার বাদী নিহত ব্যক্তির বড় মেয়ে নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর বৃদ্ধ মা–বাবা পশ্চিম হেতালিয়ায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ছোট একটি চায়ের দোকান করে সংসার চালাতেন। স্থানীয় কামাল হাওলাদার দোকান থেকে বাকিতে মালামাল নিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া রাখেন। এই টাকা চাইতে গেলে তাঁর (মামলার বাদী) বাবাকে পিটিয়ে খুন করেন কামাল হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ কয়েকজন। আসামিরা এর আগেও তাঁর বাবাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ নাজমার।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনায় আজ বেলা তিনটার দিকে নিহত রহিম প্যাদার বড় মেয়ে নাজমা বেগম পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। আমরা নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট ও পোস্টমর্টেম করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ ছাড়া জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’