
রাত তখন দুইটা। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মশারি শরীরের কাছে নেমে আসায় ঘুম ভেঙে যায় শিক্ষার্থী রাব্বি রেজার। মশারির ওপর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বুঝতে পেরে ফোনের আলো জ্বালাতেই আঁতকে ওঠেন তিনি। দেখেন, সেখানে কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে বিষধর একটি সাপ।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা আবাসিক হলের ১২১ নম্বর কক্ষে গতকাল শুক্রবার রাতে। পরে সাপটি উদ্ধার করেছে ‘সোয়ান’ নামের একটি সংগঠন। উদ্ধারকারীরা জানান সাপটি বিষধর। নাম ‘কালাচ’। সাপটি ‘কমন ক্রেইট’ বা কালকেউটে নামেও পরিচিত।
সাপের ওজনে মশারিটি আমার হাঁটুর কাছাকাছি নেমে পড়ে। পরে সেখানে কিছু একটা নড়াচড়া করছে টের পাই। এরপর আমি ফোনের লাইট জ্বালিয়ে দেখি সাপ। যে সাপটা আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পেতাম, সেটিই আমার মশারির ওপরে। আমি অনেক আতঙ্কিত হয়ে যাই।রাব্বি রেজা, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সাপ উদ্ধার করা সংগঠন ‘সোয়ান’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, এই সাপের কামড় অত্যন্ত বিষাক্ত। এর বিষ মূলত স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো কামড়ের পর শুরুতে ব্যথা বা দাগ খুব কম থাকতে পারে। ফলে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তাঁকে বিষধর সাপে কামড়েছে।
রাব্বি রেজা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। আজ শনিবার বিকেলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘সাপের ওজনে মশারিটি আমার হাঁটুর কাছাকাছি নেমে পড়ে। পরে সেখানে কিছু একটা নড়াচড়া করছে টের পাই। এরপর আমি ফোনের লাইট জ্বালিয়ে দেখি সাপ। যে সাপটা আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পেতাম, সেটিই আমার মশারির ওপরে। আমি অনেক আতঙ্কিত হয়ে যাই।’
এ বিষয়ে পাশের কক্ষে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে শুনি, ১২১ নম্বর কক্ষে মশারির ওপর সাপ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ওই কক্ষে যাই। হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সাপের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে ব্লকের সবাইকে ডেকে একত্র করি। পরে হল সংসদকে সঙ্গে নিয়ে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করি।’
এ ঘটনায় বর্তমানে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আল আমিন সরকার বলেন, ‘হলের পেছনে অনেক জঙ্গল ছিল। গত সপ্তাহে আমি হলের চারপাশ পরিষ্কার করিয়েছি। আমার মনে হয়, সাপের বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। আমাদের আরও বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’