
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে জেলেদের জালে গতকাল রোববার সকালে ৫৫ কেজি ওজনের বিপদাপন্ন প্রজাতিভুক্ত একটি বাগাড় মাছ ধরা পড়ে। পরে আজ সোমবার সকালে সেটি ১ হাজার ৩৫০ টাকা কেজি দরে প্রায় ৭৫ হাজার টাকায় এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী আসর উদ্দিন।
গতকাল সকালে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া অনন্তপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে ধরা পড়ে মাছটি। স্থানীয় জেলে বকুল চন্দ্র ও তাঁর সহযোগীরা মাছটি পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছটি জেলেদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে কিনে নেন অনন্তপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক সাজেদুল ইসলাম। পরে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলে মাছটি দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বিকেলে তিনি সেটি ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে আসর উদ্দিনের কাছে বিক্রি করেন। আজ সকালে আসর উদ্দিন মাছটি প্রতি কেজি ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করেন, প্রতি কেজিতে তাঁর লাভ হয় ৫০ টাকা। সেই হিসাবে প্রায় ৫৫ কেজি ওজনের বাগাড় মাছটি সর্বশেষ মোট ৭৪ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সাজেদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে ঢলে ব্রহ্মপুত্রে বড় আকারের মাছের বিচরণ বেড়েছে। জেলেদের জালে ধরা পড়া বাগাড় মাছটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বাজারে নেওয়া কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি কিনে নেন।
কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের চলাচল বেড়ে যায়। এ সময় বড় আকারের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ার ঘটনাও ঘটে। বাগাড় মাছ বিপদাপন্ন প্রজাতির তালিকায় আছে। বর্তমানে এই মাছের নিরাপত্তার দায়িত্ব বন বিভাগের। তাই জেলেরা জাল দিয়ে বাগাড় ধরলেও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা ছাড়া কোনো কাজ নেই।