রোজার শুরুতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকারি কাঁচাবাজার দ্বিগুবাবুর বাজারে লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি ১২০ টাকা। শনিবার সকালে
রোজার শুরুতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকারি কাঁচাবাজার দ্বিগুবাবুর বাজারে লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি ১২০ টাকা। শনিবার সকালে

নারায়ণগঞ্জে দ্বিগুবাবুর বাজারে লেবুর হালি ১২০ টাকা, বেগুনের কেজি ১৪০, মরিচ ১৬০ টাকা

রোজার শুরুতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকারি কাঁচাবাজার দ্বিগুবাবুর বাজারে বড় লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। ইফতারের বেগুনি তৈরির লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা করে। পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে এই দাম আরও বেশি। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। রোজায় শুরুতে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

শত বছরের পুরোনো দ্বিগুবাবুর বাজার নারায়ণগঞ্জ জেলায় কাঁচাপণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। শনিবার এ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বড় লেবু প্রতি হালি ১২০ টাকা, মাঝারি লেবু প্রতি হালি ১০০ টাকা ও ছোট চায়নিজ লেবু প্রতি হালি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ রোজা শুরুর এক সপ্তাহ আগে এই বাজারে প্রতি হালি বড় লেবু পাওয়া যেত ৮০ টাকা, মাঝারি ৬০ টাকা এবং ছোট চায়নিজ লেবু ৩০ টাকা।

বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

লেবু বিক্রেতা শরীফ সবজি ভান্ডারের মালিক শরীফ মিয়া প্রথম আলোকে জানান, তাঁর দোকানের লেবু চট্টগ্রাম থেকে আনা। লেবুর মৌসুম না থাকায় উৎপাদন কম, তাই দাম একটু বেশি। আরিফ ভুঁইয়া ও আওলাদ হোসেন নামের আরও দুজন লেবু বিক্রেতা জানান, রোজার এক মাস আগ থেকেই লেবুর বাজার চড়া। মোকাম থেকেই বেশি দামে লেবু কিনতে হচ্ছে।

শুধু লেবুর দামই বাড়তি নয়, ইফতারে বেগুনি তৈরির লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগেও এই বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি। বাজারে লম্বা বেগুনের সরবরাহ কম দেখা গেছে। অন্যদিকে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা। সেই কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাত দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। এ ছাড়া শসা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসের দামও বেশি।

রোজার শুরুতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকারি কাঁচাবাজার দ্বিগুবাবুর বাজারে লেবু বিক্রি হচ্ছে হালি ১২০ টাকায়

এসব পণ্য কেনার সময় দোকানিদের সঙ্গে ক্রেতাদের প্রায়ই বচসা হচ্ছে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী আবদুর করিম বলেন, রোজা এলেই সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হয়। এক হালি লেবু কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকা ও বেগুন কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের ঝাঁজ বেশি। সামান্য আয়ের মানুষের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

শহরের দেওভোগ দাতা সড়ক এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, লেবু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ সবকিছুর দাম বাড়তি। বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। গার্মেন্টস শ্রমিক আমেনা খাতুন বলেন, লেবুর বাজারেও দামে আগুন লেগেছে। এই দামে লেবু কিনে রোজায় শরবত খাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না।
ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবছর রোজা এলেই সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটর করা উচিত। তা না হলে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়বে।

রোজায় বেড়েছে বেগুনের দামও

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে জানান, বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিংয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হচ্ছে। যাঁরা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে তাঁদের জরিমানা করা হচ্ছে।