মেহেদী হাসান
মেহেদী হাসান

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মৃত্যু

আদালতে জামিন চাইতে এসে স্বামী কারাগারে

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তাঁর স্বামী মেহেদী হাসানসহ পাঁচ আসামি। শুনানি শেষে আদালত মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠান। আদালত অপর চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে মামলার পাঁচ আসামি হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রধান আসামি মেহেদী হাসানের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপর দিকে মেহেদীর বাবা আবদুর রহিম, মা আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও তাঁর স্বামী জাকারিয়ার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম বলেন, জান্নাতুন নাঈমের বাবা নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামের স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ গত বুধবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। আজ আদালতে হাজির হলে বিচারক জান্নাতুনের স্বামী মেহেদীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরের মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার কাশেম গার্ডেন নামের ভবনের শ্বশুরবাড়ির ফ্ল্যাট থেকে জান্নাতুন নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর জান্নাতুনের স্বামী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা মেহেদী হাসান এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

জান্নাতুন নাঈম কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে মেহেদীর সঙ্গে বিয়ে হয় জান্নাতুন নাঈমের। বিয়ের পর থেকেই তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় জান্নাতুনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

মামলার বাদী জান্নাতুন নাঈমের বাবা মো. হানিফ বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মেহেদীকে রিমান্ডে নিলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। আমি হত্যা মামলা করতে চেয়েছিলাম। আমার মেয়ের পাসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পুলিশ বলেছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যা এলে তখন আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। এরপর আমার কাছ থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নেওয়া হয়েছে।’

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, প্রধান আসামি মেহেদীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে। এ ছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।