আজ বুধবার সকালে ভোলার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক ‘সাঙ্গু’
আজ বুধবার সকালে ভোলার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক ‘সাঙ্গু’

মেঘনার বুকে ঝড়ের কবলে সি-ট্রাক, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন পাঁচ শতাধিক যাত্রী

ঈদের এক দিন আগে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন পাঁচ শতাধিক যাত্রী। আজ বুধবার সকালে ভোলার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক ‘সাঙ্গু’। প্রায় এক ঘণ্টা পর অবশেষে নিরাপদে ইলিশা ঘাটে পৌঁছায় নৌযানটি। জীবিত অবস্থায় তীরে ফিরেই অনেক যাত্রী মহান আল্লাহর দরবারে সিজদা দেন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও ঝোড়োবৃষ্টি শুরু হয়। এতে উত্তাল হয়ে ওঠে মেঘনা নদী। এ সময় লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় সি-ট্রাক সাঙ্গু।

নৌযানটি ইলিশা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রবল ঝড় ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে পন্টুনে ভিড়তে পারেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাঝনদীতে একটি ভার্জিং বয়ার সঙ্গে সি-ট্রাকটি নোঙর করা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করতে থাকে নৌযানটি। এ সময় ঢেউয়ের পানিতে ভিজে যান যাত্রীরা। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। উৎকণ্ঠা নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন তাঁরা।

ঝড় কিছুটা কমে এলে সি-ট্রাকটি ইলিশা ঘাটে ভেড়ে। তীরে নেমেই অনেকে শুকরিয়া আদায় করেন। কেউ কেউ মাটিতে সিজদা দেন।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচরে ঝড়ে ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ বুধবার মাঝেরচর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তোলা

ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘সাঙ্গু সি-ট্রাকটি ইলিশা লঞ্চঘাটের কাছাকাছি এসে ঝড়ের কবলে পড়ে। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমরা ঘাট থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। সি-ট্রাকের মাস্টার ঘাটের সামনে ভার্জিং বয়ার সঙ্গে নোঙর করে নিরাপদ অবস্থানে ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বয়ার সঙ্গে নোঙর করায় এবং ঝড়ের পরিস্থিতি দেখে যাত্রীরা আরও আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ফোন দেন। তবে ভার্জিং বয়াটি নিরাপদ ছিল। সব যাত্রী নিরাপদে তীরে ফিরেছেন।’

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরে অন্তত ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন বলেন, ঝড়ে ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। চাল-ডাল, বীজ ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল নষ্ট হয়েছে। ঘরের আসবাবও ভিজে গেছে। সামনে কোরবানির ঈদ, পরিবারগুলো এখন অসহায় অবস্থায় আছে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, সব ইউনিয়ন থেকে খবর আসছে। কোথাও ২০টি, কোথাও ৩০-৩৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।