
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক (মিলন) বলেছেন, ‘আমি ক্লাসগুলো দেখব—শিক্ষকেরা কী করেন, ছাত্ররা কী করে। কারণ, আমাদের তো মনিটরিং করতেই হবে। কোনো বিকল্প নেই। এই জন্য আমরা বলেছি, প্রতিটি ক্লাসরুমে ক্যামেরা পদ্ধতি থাকতে হবে।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আয়োজনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর আগের মেয়াদে নকল বন্ধ করা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি তো আমেরিকা থেকে শিক্ষক ইমপোর্ট করে নকল বন্ধ করিনি। আপনাদের মাধ্যমেই তো করেছি, নাকি? এটা প্রমাণিত সত্য যে সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে, শিক্ষকেরা সহযোগিতা করেন। সরকারের যদি সহযোগিতা না থাকে, শিক্ষকেরা সহযোগিতা করেন না। তাই আমার বিশ্বাস, শিক্ষকেরা আবার আগের অবস্থানে যাবেন। শিক্ষার পরিবেশ ফেরাবেন।’
এহছানুল হক বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা অন্য কিছু, এইগুলোর জন্য তো আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এইবার বেশি কিছু করার দরকার নেই। সিম্পলি আমরা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার কথা বলেছি। এটা কিন্তু শুধু পরীক্ষার জন্য না। এই ব্যাপারে ভুল বোঝা যাবে না। আজকে পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করল, ঠিকমতো ক্লাস হয় না। আবার শিক্ষকেরা অভিযোগ করলেন, ছাত্ররা ঠিকমতো ক্লাসে আসে না। ওকে ফাইন। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগাবেন। রেকর্ডিং থাকবে হাতে।’
শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা লাগানো প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রতিটি ক্লাসরুমে ক্যামেরা পদ্ধতি থাকতে হবে। তাহলে আমরা ঢাকায় বসে বা রাজশাহীতে বসে ক্লাসগুলো দেখতে পারব, ক্লাসরুমে ক্লাস হচ্ছে কি না। এখন এই কথা শুনে অনেকে বলছেন, ছাত্রছাত্রীদের ঘাড় ঘোরাতে দেওয়া যাবে না। কেন? রিল্যাক্স। ঘাড় ঘোরাতে পারবে না—এটা তো কোনো কথা না। আমরা বলেছি, ক্লাসরুমে উপস্থিতি থাকে কি না, শিক্ষক ঠিকমতো আসেন কি না, ছাত্র ঠিকমতো মনোযোগ দেয় কি না—এগুলো আমরা বিবেচনায় আনব। সেই সঙ্গে পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা থাকবে। আমি ঘরে বসে যদি পৃথিবী দেখতে পারি, ঘরে বসে আমি ক্লাসরুম দেখতে পারব না কেন?’
শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাজেটে শিক্ষা খাতে পাঁচ শতাংশ দেবেন। হিউজ অ্যামাউন্ট কিন্তু পাঁচ পার্সেন্ট। এই গত বাজেটেই দেখলাম, টাকা ফেরত যাচ্ছে। কাজে লাগাতে পারছে না। আমি এসে পাঁচ পার্সেন্ট, প্রায় ডাবল হয়ে যাবে বাজেট—এই টাকা কি খরচ করতে পারব? পারব না। তাই আমরা পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধি করতে চাই।’
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আ ন ম মোফাখখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী প্রমুখ।
এর আগে সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহীদ ওসমান বিন হাদী মিলনায়তনে আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন।